নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: অবৈধ জাতিগত শংসাপত্র দিয়েই কেন্দ্রীয় বাহিনীতে চাকরি! এমনই চাঞ্চল্যকর বিষয় সামনে আসছে প্রশাসনের নজরে। জাতিগত শংসাপত্র বিভাগের এক জেলা আধিকারিকের কথায়, অনেকক্ষেত্রেই নজরে এসেছে আসানসোলের বাসিন্দারা কেন্দ্রীয় বাহিনীতে চাকরি পেয়েছেন। নথি যাচাইয়ের জন্য আমাদের কাছে জাতিগত শংসাপত্র ভ্যারিফিকেশনে পাঠানো হয়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, যুবকের বাড়ি এখানে হলেও জাতিগত শংসাপত্রটি বিহার থেকে ইস্যু করানো। আমরা জানিয়ে দিচ্ছি এই ধরনের কোনও শংসাপত্র এখানে থেকে ইস্যু করা হয়নি। উল্টো ঘটনাও ঘটছে। ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা এখন থেকে জাতিগত শংসাপত্র বের করতে সচেষ্ট। তাই জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রীতিমতো আতসকাচের তলায় তা পরীক্ষা করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। আসানসোলের মহকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, জাতিগত শংসাপত্রের আবেদনগুলি খুঁটিয়ে যাচাই করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কোনওরকম বেনিয়ম নজরে এলেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
Advertisement
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্তৃপক্ষ একজনের জাতিগত শংসাপত্র যাচাই করার জন্য পাঠায়। নথি যাচাই করে দেখা গিয়েছে, ওই বাসিন্দা আমাদের এলাকার হলেও তার জাতিগত শংসাপত্রটি বিহার থেকে ইস্যু হয়েছে। কিছুদিন আগে একই রকম একটি ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের দাবি, ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমে এই ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই তিনটি জেলায় উল্টো ঘটনাও ঘটছে। হয়তো তাঁরা এখানকার বাসিন্দাই নয়, কোনও একটি অস্থায়ী ঠিকানাকে স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়ে জাতিগত শংসাপত্র করানোর জন্য আবেদন করছে। এই দপ্তরের কর্মরত এক আধিকারিক বলেন, ঝাড়খণ্ডে এমন কিছু জাতি রয়েছে যেগুলি সেখানে সংরক্ষণের তালিকায় না পড়লেও আমাদের রাজ্যে সংরক্ষণের তালিকায় রয়েছে। তাদের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। অনেকক্ষেত্রেই জমির দলিল নকল করে এখানের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়গুলি প্রশাসনের নজরে আসতেই বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।



