সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: রাসমেলার ভিড়ের মাঝেই দোকানে ঢুকে এক ব্যক্তিকে গলার নলি কেটে খুন করল দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় খড়্গপুরের গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম উমাশঙ্কর মাহাত (৪৭)। বাড়ি কোরিয়াশোল গ্রামে। তিনি আবার রাসমেলার সভাপতি ছিলেন। দুষ্কৃতীরা তাঁর দোকানে ঢুকে ভোজালি দিয়ে গলার নলি কেটে খুন করে বলে অভিযোগ। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে খড়্গপুর গ্রামীণ এলাকায় কলাইকুণ্ডার পড়াডিহা গ্রামে। জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিবাদের জেরে এই খুন বলে অভিযোগ উঠেছে। মাসতুতো ভাই রাজু মাহাত সহ তিনজনের নামে নিহতের ভাই কনক মাহাত থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি খুনের মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। নিহতের এক আত্মীয়কে আটকও করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে খুনের কাজে ব্যবহৃত ভোজালি ও আততায়ীরা যে মোটরবাইকে করে এসেছিল সেই গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে নিহত ব্যক্তি জমির ব্যবসা করতেন। একটি নির্দিষ্ট জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিবাদের জেরে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় হতবাক স্থানীয়রা। এলাকার বিধায়ক দীনেন রায় বলেন, জমি সংক্রান্ত বিবাদ থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। পুলিস বিষয়টি দেখছে।
Advertisement
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার থেকে ওই গ্রামে রাসের মেলা শুরু হয়েছে। মেলাতে নিহতের একটি দোকান ছিল। শনিবার তিনি দোকানেই ছিলেন। হঠাৎ মোটরবাইকে করে এসে তিন দুষ্কৃতী দোকানে ঢুকে পড়ে। তাদের সঙ্গে উমাশঙ্করের বচসা বেধে যায়। কিন্তু মাইক চলায় ও কীর্তন হওয়ায় কোনও আওয়াজ কেউ পায়নি। দোকানে আবার পর্দা টাঙানোও ছিল। ফলে কেউ কিছু বোঝার আগেই দুষ্কৃতীরা তার গলায় ভোজালি চালিয়ে চম্পট দেয়। এই খবর চাউর হলে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিস এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে খড়্গপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
কনক মাহাত বলেন, একটি জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দাদার সঙ্গে মাসতুতো ভাই রাজু মাহাতের বিরোধ ছিল। তার থেকেই বিবাদের সূত্রপাত। এদিন রাজু ও তার এক সঙ্গী মঙ্গল মাহাত সহ তিনজন দাদার দোকানে আসে। আমি ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় শুনতে পাই ভেতরে বচসা ও ধস্তাধস্তি হচ্ছে। তাড়াতাড়ি দোকানে ঢুকে দেখি তারা দাদাকে মারধর করছে। হাতে ভোজালিও ছিল। ছাড়াতে গিয়ে আমিও জখম হই। এই সময় ওরা ভোজালি চালিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। নিহতের ভাগ্নে অশ্বিনী মাহাত বলেন, রাজুরা একটি জমি জোর করে দখলে রেখেছিল। সেই জমি উমাশঙ্কররা কিনে নেয়। সেটা নিয়েই রাজুদের রাগ ছিল।
কনক মাহাত বলেন, একটি জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দাদার সঙ্গে মাসতুতো ভাই রাজু মাহাতের বিরোধ ছিল। তার থেকেই বিবাদের সূত্রপাত। এদিন রাজু ও তার এক সঙ্গী মঙ্গল মাহাত সহ তিনজন দাদার দোকানে আসে। আমি ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় শুনতে পাই ভেতরে বচসা ও ধস্তাধস্তি হচ্ছে। তাড়াতাড়ি দোকানে ঢুকে দেখি তারা দাদাকে মারধর করছে। হাতে ভোজালিও ছিল। ছাড়াতে গিয়ে আমিও জখম হই। এই সময় ওরা ভোজালি চালিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। নিহতের ভাগ্নে অশ্বিনী মাহাত বলেন, রাজুরা একটি জমি জোর করে দখলে রেখেছিল। সেই জমি উমাশঙ্কররা কিনে নেয়। সেটা নিয়েই রাজুদের রাগ ছিল।



