সুখেন্দু পাল, মন্তেশ্বর: আষাঢ়ের দুপুরে চারদিক আকাশ মেঘে ঢাকা। ঝিরঝিরে বৃষ্টি পড়ছে। মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রাম বাসস্ট্যান্ডের কাছে ফলের দোকানে কয়েকজন একসঙ্গে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন স্থানীয় কোনও মনসা মন্দির থেকে পুজো দিয়ে এসেছেন। কয়েক দিন আগে বিডিও অফিসের একটি ঘটনাকে নিয়ে তাঁরা কথা বলছিলেন। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার সময় বারবার এদিক সেদিক তাকাচ্ছিলেন। এই কথা কোনও কারণে ভাইজানের গ্যাংয়ের সদস্যদের কানে পৌঁছলে কী পরিণতি হতে পারে, তা তাঁরা জানেন। কয়েক মুর্হূতের মধ্যে সেখানে পৌঁছে যাবে ভাইজানের লেঠেল বাহিনী। কারণ সেটাই নাকি মন্তেশ্বরের বিচারক। সদ্য মন্ত্রীর উপর হামলা হয়েছে। মন্ত্রী নিজে ভাইজানের দিকেই আঙুল তুলেছিলেন। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি। এখনও পর্যন্ত তিনি নিজের মেজাজেই রয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, কয়েক দিন আগে অফিসে ঢুকে দুই ইঞ্জিনিয়ারকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। কিন্তু জেলার কয়েকজন প্রভাবশালী ভাইজানকে ‘রক্ষাকবচ’ দিয়ে রেখেছেন। সেই কারণেই তিনি সরকারি আধিকারিকদের পিটিয়েও রক্ষা পেয়ে যান। মারধরের কথা বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানালেও রক্ষাকবচের জন্যই তিনি রেহাই পেয়ে যান। অনেকেই বলেন, রক্ষাকবচ শক্তপোক্ত হয় ‘প্রণামী’র জোরে।
এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, এই ভাইজানের সঙ্গে এখন মন্ত্রীর সাপে-নেউলে সম্পর্ক। কিন্তু আগে তাঁদের মধ্যে সুম্পর্ক ছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, তাঁদের সম্পর্কের ফাটল তত চওড়া হচ্ছে। তৃণমূলের এক নেতা বলেন, দু’জনের লড়াইয়ের জেরে মন্তেশ্বরের পরিবেশটাই বদলে গিয়েছে। সিপিএম জমানায় এই বিধানসভা কেন্দ্র বহু হিংসার সাক্ষী থেকেছে। তৃণমূল করার ‘অপরাধে’ অনেককে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল। চাষের জমি দখল হয়ে গিয়েছিল। পরিবর্তন হওয়ার পর এলাকার বাসিন্দারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন। পালা বদলের কয়েক বছর পর বেশ ভালোই ছিল প্রাচীন এই জনপদ। কিন্তু লেঠেল বাহিনীর হাতে মন্তেশ্বরের শাসন ভার যেতেই সব কিছু বদলে যেতে থাকে। পুরনো নেতা এবং কর্মীদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়া হয়। অন্য দল থেকে আসা কয়েকজন ছড়ি ঘোরাতে থাকে। দলের বড় অংশই এই শাসন চায় না। তাঁরা চাইছেন সুশাসন ফিরে আসুক। কিন্তু লেঠেল বাহিনীর ভয়ে এখন কেউ আর মুখ খুলতে চাইছে না। খোদ মন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, তোলাবাজির প্রতিবাদ করার জন্যই তাঁর উপর হামলা করা হয়েছে।
তাহলে সাধারণ কোনও কর্মী মুখ খুললে কী পরিণতি হতে পারে, তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। দু’পক্ষর তুমুল বিবাদের পর এখন উভয় পক্ষই মুখে লাগাম টেনেছেন। বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন, ‘দল বিষয়টি দেখছে।’ ভাইজানও কিছু বলতে চাইছেন না। তিনিও মুখে কুলু এঁটেছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ এক নেতা বলেন, মন্ত্রী এখন অনেক বিষয়ে সরব হচ্ছেন। সেসব বিষয়গুলি নিয়ে তিনি আগে কেন সরব হননি, সেটা বোধগম্য হচ্ছে না।