Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গোঘাটে বরুণ খুনে নয়া মোড় মদ খেতে ডেকেছিল ‘ভাগ্নে’, মূল অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ পুলিসের

বৃহস্পতিবার সকালে মূল অভিযুক্ত ধৃত তন্ময় দাসকে নিয়ে গোঘাটে খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিস।

গোঘাটে বরুণ খুনে নয়া মোড় মদ খেতে ডেকেছিল ‘ভাগ্নে’, মূল অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ পুলিসের
  • ১১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: বৃহস্পতিবার সকালে মূল অভিযুক্ত ধৃত তন্ময় দাসকে নিয়ে গোঘাটে খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিস। একটি খড়ের পুতুল তৈরি করে গোঘাটের রাজগ্রামে পৃথক দু’টি প্লেস অব অকারেন্সে পুনর্নির্মাণ করানো হয়। সঙ্গে নেওয়া হয় মদের বোতলও। কীভাবে বরুণ দাসকে খুন করা হয়, তা দেখায় তন্ময়। ঘটনার পুনর্নির্মাণ দেখে বিস্মিত পরিবারের সদস্যরা। এদিন পুনর্নির্মাণ দেখতে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। 

Advertisement

এই ঘটনায় মূল অভিযুক্তের সঙ্গে একজন সহকারী ছিল বলে তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিস। ফলে তদন্তে নয়া মোড়ও এসেছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার রাতে বরুণ দাসকে মদ্যপান করার জন্য ফোন করে ডেকেছিল সন্দেহভাজন এক ‘ভাগ্নে’। যদিও সেই ভাগ্নের পরিচয় তদন্তের স্বার্থে এখনই পুলিস প্রকাশ করেনি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি এলাকায় নেই। পাশাপাশি তাকে সেভাবে পরিবারের সদস্যরাও চেনে না বলে দাবি। পুলিস তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। পাশাপাশি মৃত বরুণের মোবাইলটি কোথায় গেল তারও হদিশ পাওয়া যায়নি। ফলে সেটিও খুঁজতে শুরু করেছে পুলিস। গোঘাট থানার পুলিসকে সাহায্য করতে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরাও ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ঝোপঝাড়ে মোবাইল ফোন পেতে তল্লাশি চালান। যদিও বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত সেই ফোন পাওয়া যায়নি। আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
পরিবারের এক সদস্য তাপস দাস বলেন, ধৃত তন্ময়কে নিয়ে এদিন পুলিস ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেছে। আমরা সেখানে ছিলাম। মদ্যপান করতে করতেই বরুণকে খুন করা হয়েছে বলে তন্ময় দেখায়। এই ঘটনায় আরও একজন জড়িত রয়েছে। তাকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। সে বরুণকে মামা বলে ডাকত। যদিও তারসঙ্গে সেইরকম কোনও পারিবারিক সম্পর্ক নেই। আমরা চাই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুলাই সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে বের হন পেশায় রাজমিস্ত্রি বরুণ। রাতে আর তিনি বাড়ি ফেরেননি। গত রবিবার গ্রামের একটি পুকুর পাড়ের ঝোপ থেকে তার পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিস। ঘটনায় পুলিস বরুণের স্ত্রী মিতা ও তার প্রেমিক তন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার করে। মিতার সঙ্গে তন্ময়ের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে পুলিস জানতে পেরেছে। সেই সম্পর্কে পথের কাঁটা সরাতেই বরুণকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিস তদন্তে নেমে জানতে পারে, গ্রামের একটি পুকুর পাড়ে প্রথমে বরুণকে মদ্যপান করানো হয়। বেহু হয়ে পড়লে নাক মুখ চেপে তাঁকে খুন করা হয়। এরপর দেহ টেনে নিয়ে গিয়ে আরএক পুকুর পাড়ে ফেলে দেয়। জল কাদা পেরিয়ে, জমিতে হাঁটতে হাঁটতে দেহ নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। খুনের সময় তন্ময় বরুণের স্ত্রীকে ফোন করে। জানিয়ে দেয়, খেল খতম।
পুলিস জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত দু’জনকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আরও জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ