নিজস্ব প্রতিনিধি এবং সংবাদদাতা, নদীয়া: টানা বৃষ্টিতে নদীয়াজুড়ে বিপদের হাতছানি দেখা দিয়েছে। গঙ্গা ও জলঙ্গি নদীর জলস্তর হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় শান্তিপুর ও চাকদহ ব্লকে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সোমবার শান্তিপুরের বিধায়ক ও মহকুমা শাসকের উপস্থিতিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু হয়। নবদ্বীপ, মায়াপুর সহ একাধিক জায়গা প্লাবিত হয়েছে।
সাধারণত গঙ্গা নদীর জলস্তরের বিপদসীমা ৭.৪৪মিটার। এখন জলস্তর ৬.৭৮মিটার। ফলে বৃষ্টি বাড়লে নদীতে জলস্তর আরও বাড়বে। তাতে নদী-তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন ও প্লাবনের মতো পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। জেলা সেচদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মরশুমে বৃষ্টি অনেকটাই বেড়েছে। গত ২৪ঘণ্টায় ৪৫মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত নদীয়া জেলায় বর্ষায় ১২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। অথচ জুলাইয়ের মাঝামাঝি অর্থাৎ অর্ধেক বর্ষাতেই ১০০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শান্তিপুর ও চাকদহ ব্লকে ভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
শান্তিপুরের হরিপুর পঞ্চায়েতের কলডাঙা, চৌধুরীপাড়া এলাকায় বস্তা দিয়ে বাঁধানো পাড় ধসে গিয়েছে। বেশ কিছু জমি গঙ্গায় তলিয়ে গিয়েছে। চাকদহ ব্লকের সান্যালচর এলাকাতেও বেশ কয়েকমিটার দীর্ঘ ভাঙন নজরে এসেছে। নদীপাড় থেকে কয়েক মিটার দূরে যাঁদের বসবাস, তাঁরা অজানা আতঙ্কের প্রহর গুনছেন। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ভাঙন মোকাবিলার কাজ শুরু করেছে সেচদপ্তর। সোমবার শান্তিপুরে বৃষ্টির মধ্যেই ফের বস্তা দিয়ে পাড় বাঁধানো শুরু হয়। সেখানে দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী, রানাঘাটের মহকুমা শাসক ভরত সিং ও স্থানীয় বিডিও সন্দীপ ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। ভাঙনের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিধায়ক ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার কাজ চলে। বিধায়ক বলেন, ভাঙন নজরে আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমরা কাজ শুরু করেছি। আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে নির্দেশ দিয়েছি। মহকুমা শাসক বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বস্তার নীচের মাটি ধসে এই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা। আমরা সমস্তরকম পরিষেবা দিতে তৈরি। ক্ষতিগ্রস্ত চাকদহ ব্লকেও কাজ শুরু হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। নবদ্বীপ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে বসেছে।
অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জায়গায় জমা জলও প্রশাসনের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। নবদ্বীপ, মায়াপুর ও স্বরূপগঞ্জ ফেরিঘাটে বাঁশের মাচা ডুবে যাওয়ায় সংকীর্ণ লোহার জেটি দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। শতাধিক নিত্যযাত্রী সমস্যায় পড়েছেন। মাজদিয়া-পানশিলা পঞ্চায়েতের ফরেস্টডাঙায় নদী-তীরবর্তী পাটখেত জলে ডুবে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবমিলিয়ে, দু’টি মৌজার প্রায় ২০০বিঘার বেশি জমি জলের তলায়। পলাশীপাড়া, তেহট্ট, চাঁদেরঘাট, শ্যামনগর সহ নানা এলাকায় রাস্তা ডুবে গিয়েছে। তেহট্ট ব্লকে চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। এলাকা পরিদর্শনে বিধায়ক সহ প্রশাসনের কর্তারা। নিজস্ব চিত্র