সংবাদদাতা, করিমপুর: ভোট হওয়ার আগেই তার ফলাফল নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে করিমপুরে। কে জিতবে আর কে হারবে তা নিয়ে চলছে বাজি ধরা। কোথাও নগদ পাঁচশো টাকা আবার কোথাও বাজি হারলে তাকে দিতে হবে পিকনিকের খাসির মাংস। ভোট পর্ব মিটতে এখনও প্রায় দুই সপ্তাহ বাকি। অথচ এখন থেকে কোন দল কোন বুথে কত ভোট পেতে পারে তার হিসাব শুরু হয়েছে। করিমপুরের এক ব্যবসায়ী জানান, আমাদের বন্ধুদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থক রয়েছে। কে জিতবে, তা নিয়ে একেক জন আলাদা মত দিয়েছে। তাই আমরা বাজি লড়েছি যে, যারা হারবে তারা পিকনিকে খাসির মাংসের খরচ দেবে। যারা জিতবে তাদের কোনো টাকা দিতে হবে না। ভোটের ফলাফল নিয়ে একটি বা দু’টি নয়, অসংখ্য জায়গায় বাজি ধরা চলছে। করিমপুর ১ ব্লকের ৮টি ও ২ ব্লকের ৬টি পঞ্চায়েত করিমপুর বিধানসভার অন্তর্গত। কেউ বলছেন এবারে এই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এখানে তৃণমূল যেমন জয়ের ব্যাপারে প্রত্যাশী, তেমনি বিজেপি প্রার্থীর জয় নিয়েও আশাবাদী তাদের সমর্থকরা। আগের বিধানসভা ভোটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, করিমপুর বিধানসভায় তৃণমূল প্রায় ২৩ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে থাকলেও গত লোকসভা ভোটে সেই মার্জিন কমে ১২ হাজারের কাছাকাছি চলে এসেছিল। দ্বিতীয় স্থানে ছিল বিজেপি। কিন্তু এবার সিপিএম ও কংগ্রেসের জোট না হওয়ায় দুই দলেরই প্রার্থী রয়েছে। ফলে ভোট ভাগাভাগির একটা সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে কার ভোট কোন দিকে যাবে তা নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। করিমপুর ২ এরিয়া কমিটির সম্পাদক লিয়াকত হোসেন বলেন, এবার সিপিএম প্রার্থী করিমপুর এলাকায় ব্যাপক ভোট পাবেন। সিপিএম থেকে অন্য দলে চলে যাওয়া বহু মানুষ ফিরে এসেছেন এবং সেই ভোট বৃদ্ধি পাবে। একই কথা জানান, করিমপুর ১ ব্লক কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অভিজিৎ অধিকারী জানান, কুড়ি বছর পরে কংগ্রেসের হাত প্রতীকে আমাদের প্রার্থী লড়ছেন। দলের অনেক সমর্থক যাঁরা এতদিন ইভিএমে দলের প্রতীক না পাওয়ায় অন্যদের ভোট দিয়েছিলেন, তাঁরা এবার কংগ্রেসকে ভোট দেবেন। ফলে অনেক কিছুই বদলে যাবে। বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সহ সভাপতি সুরজিত জোয়ারদার জানান, এর আগে বহু জায়গায় মানুষকে ভয় দেখিয়ে তৃণমূল ভোট করেছিল। যে কারণে ওই এলাকায় তৃণমূলের ভোট বেশি হয়েছিল। কিন্তু এই বছর তারা সেই সুযোগ পাবে না। এলাকার মানুষ অবাধে নিজের ভোট নিজে দিতে পারবেন। যদিও তাদের এই দাবি ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। করিমপুর ১ ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি সৌমিক সরকার বলেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল সাড়ে তেইশ হাজার ভোটে জিতেছিল। এবার সেই মার্জিন আরও বাড়বে। করিমপুরে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী সোহম চক্রবর্তী। ছবি: কাজল বিশ্বাস



