Bartaman Logo
৩০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

সেরা রাইট উইঙ্গার

‘শ্যাম দা....’ সুরজিতের সেই ডাক আজও কানে বাজে। ফাইনাস পাস বাড়ানোর আগে ওটাই ছিল সিগনাল। সুরজিতের সঙ্গে আমার টেলিপ্যাথির যোগ। ঠিকানা লিখে বল বাড়াত সুরো।

সেরা রাইট উইঙ্গার
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যাম থাপা: ‘শ্যাম দা....’ সুরজিতের সেই ডাক আজও কানে বাজে। ফাইনাল পাস বাড়ানোর আগে ওটাই ছিল সিগনাল। সুরজিতের সঙ্গে আমার টেলিপ্যাথির যোগ। ঠিকানা লিখে বল বাড়াত সুরো। ওর পাস থেকে কত গোল করেছি। আমার কাছে সুরজিতই সেরা রাইট উইঙ্গার। ভৌমিক (সুভাষ) ছিল বুলডোজার। বেপরোয়া, অসম্ভব পাওয়ারফুল। যে কোনও রক্ষণকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল সুভাষের। কিন্তু সুরজিৎ ঠিক উলটো। এককথায় শিল্পী। বল নিয়ে এগত রাজার মত। পরবর্তীতে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবেও বহু ম্যাচ খেলেছি। সুরো বিপক্ষে থাকা মানেই ডিফেন্ডারদের দুশ্চিন্তা।

Advertisement

১৯৭৫ সালের শিল্ড ফাইনালের কথা মনে পড়ছে। শুরুতেই সুভাষের দৌড় মোহন বাগানকে টলিয়ে দেয়। তবে প্রথম আঘাতটা হেনেছিল সুরজিতই। ৬ মিনিটে ওর গোলের পরেই ম্যাচের রাশ নেয় ইস্ট বেঙ্গল। চোরা গতি সুরজিতের সম্পদ। স্পিডের সঙ্গে ড্রিবল করার ক্ষমতা ওকে আরও ভয়ংকর করেছিল। আউটসাইড চাঁটাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল সুরো। অনেকে মনে করেন সুরজিৎ বড়ো ম্যাচে একটু সফট। আরে বাবা, শিল্পী ফুটবলার এমনটাই হয়। একটু ভাবুক টাইপের। কিন্তু একটা থ্রু পাস বা ড্রিবলে ম্যাচ শেষ করার ক্ষমতা রাখে। প্রকৃত ম্যাচ উইনারের নাম সুরজিৎ সেনগুপ্ত। প্রদীপদা বলতেন, ‘সুরো দৌড়ো। তোর দৌড়কে সবাই ভয় পায়।’ ১৯৭৭ এর সন্তোষ ট্রফি ফাইনালে স্রেফ দৌড়েই বশ মানিয়েছিল পাঞ্জাবকে। তারপর মোহন বাগান মাঠে ক্রসপিস ধরে ঝুলে পড়ে সুরো। 
মাঠের বাইরেও সুরজিৎ অনবদ্য। ফুটবল না খেললে সংগীতকে পেশা করলেও কাঁপিয়ে দিত। একবার ডুরান্ড খেলতে যাওয়ার সময় সুরজিতের গান শুনতে গোটা কামরা উপচে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবস্থা বেগতিক দেখে প্রদীপদা সামাল দেয় পরিস্থিতি। অনেকেই হয়তো জানেন না যে, ও খুব ভালো তবলা বাজাত। বিখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সুচিত্রা মিত্রকে বেশ কয়েকবার সংগতও করেছে। 
টিম হোটেলে জুনিয়রদের কাছেও সুরোর প্রবল জনপ্রিয়তা। সবাইকে এক মুহূর্তে আপন করে নেওয়ার দুর্লভ ক্ষমতা ছিল ওর। একটু ভারিক্কি, কথাও বলত মেপে। তবে যুক্তিতে সুরোকে হারানো মুশকিল। আরও একটা কথা বলতেই হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বরাবর বলিষ্ঠ প্রতিবাদ করেছে সুরজিৎ। ২০২২ সালের কথা মনে পড়ছে। ভৌমিকের চলে যাওয়ার শোক তখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি। হাসপাতালে ভর্তি করা হল সুরোকে। তারপর ১৭ ফেব্রুয়ারি সুরোও পাড়ি দিল অনন্তলোকে। ময়দানে গেলে আজও শুনতে পাই ওর গলা। ‘শ্যাম দা...’ । মনে হয় বোধহয় মাটি ফুঁড়ে আসবে ফাইনাল পাস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ