Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলার ভোটার নরেন্দ্র মোদি! চর্চায় দুবরাজপুরের ‘দিদি-মোদি’র গল্প

তখন কি আর কেউ জানতেন নরেন্দ্র মোদি নামের একজন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন, আবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা!

বাংলার ভোটার নরেন্দ্র মোদি! চর্চায় দুবরাজপুরের ‘দিদি-মোদি’র গল্প
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

পিনাকী ধোলে, দুবরাজপুর: তখন কি আর কেউ জানতেন নরেন্দ্র মোদি নামের একজন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন, আবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা! যদি জানতেন, তাহলে হয়তো দুবরাজপুরের বৃদ্ধ শ্রীনারায়ণ মোদি তাঁর ছেলের নাম নরেন্দ্র ও মেয়ের নাম মমতা রাখার আগে বেশ কয়েকবার ভাবতেন। ওরকম নামকরণ করতেন কি না, তাতেও সংশয় রয়েছে। কারণ, এই নামের জন্যই যে বর্তমানে প্রায়শই বিড়ম্বনায় পড়তে হয় দুবরাজপুরের বাসিন্দা নরেন্দ্র মোদিকে। যখন তাঁর দিদির নাম মমতা, তাতে বিড়ম্বনা আরও বাড়ে বৈকি! 

Advertisement

রাজ্যে এসআইআর আবহে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা যাচাই করতে গিয়েই নজরে আসে নরেন্দ্র মোদির নাম। তাঁর দিদি আবার মমতা। স্থানীয় সূত্রের খবর, বীরভূমের দুবরাজপুর শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বছর পঞ্চাশের নরেন্দ্র মোদি পেশায় ব্যবসায়ী। আদি বাসস্থান রাজস্থানে হলেও নরেন্দ্রবাবুর জন্ম এই বাংলাতেই। বাংলাই তাঁর মাতৃভাষা। তাঁর নাম নিয়ে অত বেশি চর্চা ছিল না। কিন্তু ২০১৪ সালে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী কুরশিতে বসার পর থেকেই দুবরাজপুরের নরেন্দ্রর বিড়ম্বনা বাড়তে থাকে। বাইরে কোথাও গিয়ে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে নাম বললেই হাসির রোল ওঠে। অনেক আবার হেসে তাঁকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ বলেও ডাকেন। এনিয়ে ‘বাংলার মোদি’ বলেন, বাড়ির লোকেরা নাম রেখেছিলেন নরেন্দ্র। তখন তো আর নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হয়নি। তবে, এখন আমার ভালোই লাগে। কোথাও গেলে লোকজন মজা করে বলে, নরেন্দ্র মোদি চলে এসেছেন যে। নরেন্দ্র মোদির মুদির দোকানে কাজ করেন দিব্যেন্দু রজক। তাঁর কথায়, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী আর আমার বাবুর নাম একই। ভালোই লাগে। আমরা তো মাঝেমধ্যে মজা করে বলি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এসেছেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, নরেন্দ্র মোদির তিন দিদি। তারমধ্যে এক দিদির নাম মমতা। বর্তমানে তিনি কলকাতার বাসিন্দা। রাজ্য রাজনীতিতে মোদি মমতার চরম প্রতিদ্বন্দ্বী। মোদি ভোট প্রচারে এসে মমতাকে ‘দিদি’ বলে বিদ্রুপ করেন।  উঠতে বসতে এক অপরকে তুলোধোনা করেন প্রতিনিয়ত। তবে, দুবরাজপুরের নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বোন মমতার সম্পর্ক অমলিন। নরেন্দ্র বলেন, ছোট বেলায় দিদির সঙ্গে অনেক ঝগড়া করেছি। তবে, আমাদের ভাই বোনের সম্পর্ক খুবই ভালো। দিদির বাড়ি গেলেই রসগোল্লা খাওয়ায়। এই নামের বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই হাসাহাসি শুরু হয়েছে তৃণমূল, বিজেপির মধ্যেও। স্থানীয় বিজেপি নেতা সত্যপ্রকাশ তিওয়ারির কথায়, ওঁকে আসলে আমরা আসলে নরেন বলেই চিনতাম। ভোটার লিস্ট দেখে পরে জানতে পারি যে ও আসলে নরেন্দ্র মোদি। আবার তাঁর বোনের মমতা। বিষয়টি বেশ মজাই লেগেছে। দুবরাজপুর শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি স্বরূপ আচার্য বলেন, বিষয়টি নেহাতই কাকতালীয় ব্যাপার। রাজনীতিতে যা কোনওদিনই সম্ভব নয়, তাই হয়েছে দুবরাজপুরে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ