নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় সিপিএম পঞ্চায়েত সদস্যর স্বামীর নাম। এই ঘটনা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এই ঘটনা কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের দিগনগর পঞ্চায়েতের জিওলগাড়ির। তৃণমূলের দাবি, পঞ্চায়েত সদস্যর স্বামী ‘অযোগ্য› হওয়া সত্ত্বেও তাঁর নাম বাংলার বাড়ি উপভোক্তাদের তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে সিপিএমের পঞ্চায়েত সদস্যর দাবি, আর্থিক সমস্যার জন্য তাঁর পাকা বাড়ির প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বর্তমানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকেন।
দিগনগরের জিওলগাড়ি এলাকার সিপিএম পঞ্চায়েত সদস্যর নাম শুক্লা দাস মণ্ডল। তাঁর স্বামী কার্তিক দাস দিগনগর বাজারের একটি সাইকেল সারানোর দোকানে কাজ করেন। বছর আষ্টেক আগে তিনি বাড়ির জন্য আবেদন করেছিলেন। তখন তিনি ও তাঁর পরিবার একটি কাঁচা বাড়িতে থাকতেন। এবার বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দ্বিতীয় দফায় যোগ্য উপভোক্তা হিসেবে তাঁর নাম এসেছে। এদিন তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি একতলা পাকা বাড়ি রয়েছে। সেখানেই ওই পঞ্চায়েত সদস্য স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে থাকছেন। যদিও সেই বাড়ি সম্পূর্ণ হয়নি। ইঁটের দেওয়ালেও শ্যাওলা জমেছে। ঘরের ভিতরের পার্টিশন দেওয়া রয়েছে।
শুক্লা দাস মণ্ডল বলেন, আমার দুই দেওর ও তাঁদের পরিবার এই পাকা বাড়িতে থাকে। আমরা আগে বাড়ির সামনের জমিতে মাটির ঘরে থাকতাম। এখন দেওররা বেঙ্গালুরুতে কাজের জন্য আছেন। তাই আমাদের থাকতে দিয়েছেন। আমাদের নিজেদের কোনও ঘর নেই। তাই এই বাড়ি পাওয়াটা আমাদের খুব দরকার। তাঁর স্বামী কার্তিক দাস বলেন, আমার নামে ঘরে এসেছে। আমি সাইকেল সারানোর কাজ করিন। আমাদের আগে মাটির ঘর ছিল। আট-দশ বছর আগে আবেদন করেছিলাম। ওই ঘরগুলো আমার ভাইয়ের। ওরা আমাদের থাকতে দেয়। ঘরটা পেলে আমাদের খুব সুবিধা হয়।
উল্লেখ্য, কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের অন্তর্গত দিগনগর পঞ্চায়েত বর্তমানে রাম- বামের দখলে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই দিগনগর পঞ্চায়েত থেকে সিপিএম ১০টি, তৃণমূল ৮টি এবং বিজেপি ৪টি আসনে জয়ী হয়েছিল। তারপর বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে বোর্ড গঠন করে সিপিএম। যদিও গত লোকসভা নির্বাচনে এই এলাকায় বিজেপি লিড পেয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের দিগনগর পঞ্চায়েতে তৃণমূল কিছুটা পিছিয়েই রয়েছে।
দিগনগরের পঞ্চায়েত প্রাক্তন উপপ্রধান এবং বর্তমান এসসি-ওবিসি সেলের তৃণমূলের অঞ্চলের সভাপতি রুইদাস মণ্ডল বলেন, ওঁরা বাস্তবিকই গরিব। কিন্তু পাকা বাড়ি রয়েছে। যা স্বাভাবিকভাবেই বাংলার বাড়ি পাওয়ার যোগ্য নয়।
পঞ্চায়েত প্রধান দিগলী বিশ্বাস বলেন, প্রশাসনের আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়েছিলেন। তাঁরা সমস্তটাই খতিয়ে দেখছেন। তিনি যোগ্য বলেই ঘর পেয়েছেন। রাজনীতির রং দূরে রেখে গরিব মানুষ ঘর পাচ্ছেন। এটা হলে তো ভালোই হয়।
নদীয়া জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক অনুপকুমার দত্ত বলেন, জব কার্ড ও অন্যান্য সরকারি নথিপত্রে দেখা হয় যে, যার বাড়ি পাকা এবং আবেদনকারী এক পরিবারভুক্ত কি না। যদি একই পরিবারভুক্ত না হন এবং ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল করেন সে ক্ষেত্রে তিনি পাওয়ার অযোগ্য।
কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কার্তিক মণ্ডল বলেন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বাংলার মানুষকে সরকারি পরিষেবা দেওয়ার ব্যাপারে রাজনীতির রং দেখেন না। এটাই তার প্রমাণ। মানুষের অধিকার পাইয়ে দেওয়াই আমাদের সরকারের লক্ষ্য। তিনি বাংলার বাড়ি পাওয়ার যোগ্য না অযোগ্য সেটা প্রশাসনের আধিকারিকরা খতিয়ে দেখবেন।