Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলার বাড়ির ভোক্তা তৃণমূল প্রধানের আত্মীয়, সংঘনেত্রী, পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও ছাড়পত্র কেন? প্রশ্নে তোলপাড় নন্দীগ্রাম

ঝকঝকে পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও নন্দীগ্রামে পঞ্চায়েত প্রধানের আত্মীয়, সংঘনেত্রীর স্বামী বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ৬০ হাজার টাকা পেলেন।

বাংলার বাড়ির ভোক্তা তৃণমূল প্রধানের আত্মীয়, সংঘনেত্রী, পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও ছাড়পত্র কেন? প্রশ্নে তোলপাড় নন্দীগ্রাম
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ঝকঝকে পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও নন্দীগ্রামে পঞ্চায়েত প্রধানের আত্মীয়, সংঘনেত্রীর স্বামী বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ৬০ হাজার টাকা পেলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি ও তাঁর স্ত্রী দু’জনেই বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘর পাওয়ার জন্য গ্রিভান্স সেলে আবেদন জমা করার পর নতুন বাড়ি পাওয়ার যোগ্য কি না বিডিও অফিস থেকে এনকোয়ারি হল। পাকাবাড়ি থাকা সত্ত্বেও ফের বাড়ি তৈরির জন্য টাকা আসার ঘটনায় অনেকেই উৎসাহিত হয়ে গ্রিভান্স সেলে আবদার করছেন। গোটা ঘটনায় নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের মহম্মদপুরে হইচই পড়ে গিয়েছে। বিডিও নাজিরুদ্দিন সরকার বলেন, বাড়ি পাওয়ার উপযুক্ত নন, এমন ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে টাকা গেলে আমরা ব্যাঙ্কে চিঠি দিয়ে টাকা আটকে দেব। মহম্মদপুরের ঘটনায় আমরা তদন্ত করছি। প্রয়োজনে টাকা আটকে দেওয়া হবে।
নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শেখ হাবিবুলের বাড়ি মহম্মদপুর ৬৩ নম্বর বুথে। ওই বু঩থেই হাবিবুলের ভগ্নিপতি শেখ হেসামুদ্দিনের বাড়ি। ২০১৭-’১৮ আর্থিক বছরে হেসামুদ্দিন ইন্দিরা আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির টাকা পেয়েছিল। সেই টাকায় বাড়িও বানিয়েছিল। তারপর এবার বাংলার বাড়ি উপভোক্তা তালিকায় তাঁর নাম দেখে বিডিও অফিসে অভিযোগ জানান স্থানীয় সিপিএম নেতা গোলাপ মোতার্জা। ২০২৫ সালে সুপার চেকিং চলাকালীন ওই বুথে ১২ জনের নাম বাদ যায়। হেসামুদ্দিনের নামও বাদ পড়ে। অদ্ভুতভাবে বাদ যাওয়া ১২ জনের মধ্যে হেসামুদ্দিনের নাম ফের বাংলার বাড়ি পিডব্লুএল (পার্মানেন্ট ওয়েটিং লিস্টে) তালিকায় এন্ট্রি হয়। সম্প্রতি তার অ্যাকাউন্টে ৬০ হাজার টাকা ঢুকেছে। একবার ইন্দিরা আবাস যোজনায় টাকা পাওয়ার পর এবং পাকাবাড়ি বানানোর পরও তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গিয়েছে।

Advertisement


মহম্মদপুর ৫৭ নম্বর বুথে স্বনির্ভর দলের সংঘনেত্রী নাজিরা খাতুনের বাড়ি। নাজিরাদের তিনতলা ঝকঝকে বাড়ি তৈরির কাজ সবে শেষ হয়েছে। অথচ, তাঁর স্বামী শেখ মাসুদের নামে বাংলার বাড়ি তৈরির জন্য ৬০ হাজার টাকা ঢুকেছে। মাসুদের নাম বাংলার বাড়ি লিস্টে দেখার পর ওই বুথের বাসিন্দা শেখ মুস্তাক ২০২৫ সালে ২৪ নভেম্বর বিডিও অফিসে অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগ জমা পড়ার পরও কীভাবে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।মহম্মদপুর ৬৩ নম্বর বুথের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হলেন শেখ মুসিয়ার। ২০১৬ সালে গ্রুপ-ডি কর্মী হিসেবে মহেশপুর হাইস্কুলে যোগ দেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্যানেল বাতিলের জেরে তাঁর চাকরি বাতিল হয়। ওই তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বাবা আব্দুল জব্বার ২০১৮ সালে বাড়ি তৈরির টাকা পান। সেই টাকায় পাকাবাড়ি হয়। সেই পাকাবাড়ি লাগোয়া মাটির বাড়ির একাংশ রাখা আছে। সম্প্রতি বাড়ি তৈরির জন্য মুসিয়ার এবং তাঁর স্ত্রী আসমিনারা খাতুন দু’জনে গ্রিভান্স সেলে আবেদন করেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে নন্দীগ্রাম-১ বিডিও অফিসে মঙ্গলবার তাঁদের বাড়িতে চেকিং হয়। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, স্বামী-স্ত্রী কীভাবে একসঙ্গে বাড়ির টাকা পেতে আবেদন করতে পারেন?হেসামুদ্দিন পাকাবাড়ি বানানোর পরও লাগোয়া পুরনো কাঁচাবাড়ি রেখেছেন। পাকাবাড়িটি তাঁর ভাইয়ের বলে দাবি করছেন প্রধানের ভগ্নিপতি। তিনি বলেন, আমরা কাঁচাবাড়িতে থাকি। বুধবার বাড়ি তৈরির ৬০ হাজার টাকা তুলেছি। দ্রুত নতুন বাড়ির কাজ শুরু করব।সংঘনেত্রী নাজিরা খাতুন বলেন, আমাদের বাড়ি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। সরকারের টাকায় বাড়ি তৈরির অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ