নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: গৃহনির্মাণের অগ্রগতি সন্তোষজনক। পাঁচ মাসে অধিকাংশ ঘর নির্মাণ হয়েছে লিন্টেল পর্যন্ত। তাই বাংলার বাড়ি প্রকল্পে শিলিগুড়িতে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাচ্ছেন ৪৬৭২ জন উপভোক্তা। মঙ্গলবার শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের কাছে এমনই রিপোর্ট পেশ করেছেন প্রশাসনের কর্তারা। একইসঙ্গে তাঁরা জানান, ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েও গৃহনির্মাণ কাজ শুরু করেননি অনেকে। এমন ২৯ জন উপভোক্তাকে শোকজ করা হয়েছে। পশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের উপভোক্তা তালিকা প্রস্তুতের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
একাধিকবার ছাঁকনির পর ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষের জন্য বাংলার বাড়ি প্রকল্পের চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকা প্রস্তুত করা হয়। গোটা রাজ্যের সঙ্গে গত ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় শিলিগুড়িতেও উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা বিলি শুরু হয়। জানুয়ারি মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ হয়।
প্রশাসন সূত্রে খবর, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের জন্য বাছা হয়েছিল ৫১৭৬ জন উপভোক্তা। যারমধ্যে ৫৬ জন জমি ও ব্যাঙ্কের নথি সহ জমা করতে পারেননি। তাই তাঁদের বাদ দিয়ে বাকি ৫১২০ জনকে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পাঁচ মাসের মধ্যে ঘরের লিন্টেল পর্যন্ত তৈরি করেছেন ৪৬৭২ উপভোক্তা। এমন উপভোক্তার সংখ্যা ফাঁসিদেওয়া ব্লকে সর্বাধিক, ১৯৭৭ জন। এরবাইরে খড়িবাড়িতে ১২৬৯, নকশালবাড়িতে ১১৯২ এবং মাটিগাড়ায় ২৩৪ জন। এবার এঁদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা বিলি শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তিতেও ৬০ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। এদিন প্রশাসনের কাছ থেকে এমন রিপোর্ট পেয়ে উচ্ছ্বসিত পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ।
সভাধিপতি বলেন, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে গৃহনির্মাণের অগ্রগতি সন্তোষজনক। ঘরের লিন্টেল পর্যন্ত তৈরির ক্ষেত্রে রাজ্যে এই মহকুমা প্রথম সারিতে। প্রশাসনের আধিকারিক ও উপভোক্তাদের সহযোগিতায় এটা সম্ভব হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সকলের বাড়ি তৈরির কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।
সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে এখনও গৃহনির্মাণ কাজ শুরু করেননি অনেক উপভোক্তা। প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েও বাড়ির কাজে হাত দেননি ২৯ জন। এমন উপভোক্তার সংখ্যা ফাঁসিদেওয়ায় ১৪, খড়িবাড়িতে ১২ এবং নকশালবাড়িতে তিনজন। এঁদের কেউ প্রথম কিস্তির টাকা পেয়ে কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে চলে গিয়েছেন। আবার কেউ বিভিন্ন অজুহাতে কাজে হাত দেননি। এছাড়া, ৪৪৮ জন উপভোক্তা এখনও ঘরের লিন্টেল পর্যন্ত নির্মাণ করতে পারেননি। সভাধিপতি বলেন, বাড়ি তৈরির কাজ শুরু না করা ২৯ জনকে শোকজ করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে শোকজের জবাব পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া যাঁরা ঘরের লিন্টেল পর্যন্ত তৈরি করতে পারেননি, তাঁদেরকে নির্মাণ কাজে গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের উপভোক্তা তালিকা তৈরির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, এই প্রকল্প চালুর সময় বাড়ি পাওয়ার যোগ্যদের তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। সেই তালিকায় প্রায় ১৫ হাজার জনের নাম রয়েছে। এরবাইরে আরও বেশকিছু বাসিন্দা বাড়ির জন্য আবেদন করেছেন। তাই বিষয়টি নিয়ে আবার সমীক্ষা করা হতে পারে।