সন্দীপন দত্ত, মালদহ: ভাইফোঁটার বাজারে বাংলাদেশকে টেক্কা দিচ্ছে মায়ানমারের ‘তাজা’ ইলিশ। এই সময় বাংলাদেশের ইলিশের জোগান কম। যেটুকু আছে, সেটাও আবার হিমঘরের। তাই রসনা তৃপ্তিতে বাঙালির ভরসা মায়ানমারের ইলিশ। সেই ইলিশ যদি আবার টাটকা হয়, তাহলে তো কথাই নেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভাইফোঁটা উপলক্ষ্যে মায়ানমার থেকে কিছু টাটকা ইলিশ এসেছে মালদহের বাজারে। মায়ানমারের এক কেজি সাইজের ইলিশের দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে। এরপর বাজারে চাহিদা এবং মাছের ওজনের উপর ভিত্তি করে সেই দাম দু’হাজার থেকে বাইশশো টাকা ছুঁতে পারে। এক কেজির কম, যেমন ছয়শো থেকে আটশো গ্রাম ওজনের মায়ানমারের তাজা ইলিশের দাম ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে শুরু। ভাইফোঁটার বাজারে চাহিদা অনুযায়ী এই মাছের দামও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে এক কেজির কম ওজনের ইলিশের দাম হতে পারে দেড় হাজার থেকে সতেরোশো টাকা।
এছাড়া হিমঘরে মায়ানমারের কিছু ইলিশ মজুত আছে। যার ওজন পাঁচশো থেকে ছয়শো গ্রামের মধ্যে। সেই ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে হাজার টাকা দরে। তবে, এমন দিনে পাতে তাজা ইলিশ দেওয়ার দিকেই ঝোঁক বেশি। তাই ভাইফোঁটার বাজারে টাটকা ইলিশের দাম যে আকাশ ছোঁবে, তা বলাই বাহুল্য।
মায়ানমারের পাশাপাশি বাংলাদেশের কিছু হিমঘরের ইলিশ রয়েছে। যার সাইজ এক কেজি তিনশো থেকে দেড় কেজির মধ্যে। বাংলাদেশের হিমঘরের এই ইলিশের দাম দু’হাজার, বাইশশো টাকা। ব্যবসায়ী মহম্মদ সামসু জানান, হিমঘরে মায়ানমার এবং বাংলাদেশের ইলিশ রয়েছে। তবে, ভাইফোঁটা উপলক্ষ্যে বাজারে মায়ানমারের টাটকা ইলিশের চাহিদা সবথেকে বেশি। ইলিশের পরেই ভাইফোঁটার বাজারে সবথেকে বেশি চাহিদা থাকে চিংড়ি মাছের। কেউ কেউ আবার ইলিশ, চিংড়ির সঙ্গে রুই বা কাতলাও নিয়ে থাকেন। ভাইফোঁটায় আড়, বোয়াল, চিতল, পাবদার চাহিদা সেই অর্থে থাকে না বললেই চলে। সামসু আরও জানান, পাল্লায় বড় সাইজের চিংড়ি এক কেজিতে বারো থেকে চোদ্দটি ওঠে। যার দাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। একটু ছোট সাইজের চিংড়ি হলে এক কেজিতে আঠেরো থেকে কুড়িটি ওঠে। যার দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি। ভাইফোঁটার বাজারের চাহিদা অনু্যায়ী চিংড়ি মাছেরও দাম বাড়তে পারে। তাছাড়া দুই থেকে তিন কেজি ওজনের কাতলা মাছের দাম এখন তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো টাকা। একই ওজনের রুই মাছের দাম পড়ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।