সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ওড়িশায় কাজ করতে যাওয়া সামশেরগঞ্জ ও সূতির ১০জন শ্রমিককে কাগজ ভেরিফিকেশনের নামে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর গত তিনদিন ধরে তাঁদের স্থানীয় একটি ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে। কোনও কারণ ছাড়াই তাঁদের ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে। শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের তরফে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছতেই রীতিমতো দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগে রয়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মারফত আটক শ্রমিকদের পরিচয়পত্র সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সেখানে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের কবে ছাড়া হবে, সেবিষয়ে কিছু জানানো হয়নি বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।
সামশেরগঞ্জ থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ওড়িশা পুলিশ-প্রশাসনকে যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। ওঁদের শীঘ্রই ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জেনেছি।
জানা গিয়েছে, প্রায় মাসখানেক আগে সামশেরগঞ্জ থানার মহিষাস্থলি গ্রামের আটজন ও সূতির দু’জন শ্রমিক ওড়িশার ভদ্রক জেলার পুরাতন বাজার এলাকায় ফেরিওয়ালার কাজে যান। গত তিনদিন আগে রাতে দুই গাড়ি পুলিশ শ্রমিকদের ভাড়াবাড়িতে আসে। তারা শ্রমিকদের কাগজপত্র দেখতে চায়। কাগজপত্র ভেরিফিকেশন করতে হবে বলে তাঁদের সকলকেই স্থানীয় নতুনবাজার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই ওই শ্রমিকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তারপর তাঁদের একটি ক্যাম্পে বন্দি করে রাখা হয়। সেখানে মেদিনীপুর জেলার আরও সাতজন পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। ক্যাম্পে তাঁদের দু’বেলা খাওয়া ও শোওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শ্রমিকদের সঙ্গে মোবাইল রয়েছে। তাঁরা ফোনে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। শিবির থেকেই তাঁরা পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ক্যাম্পে শ্রমিকরা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন। ক্যাম্পে বন্দি শ্রমিক কাবিরুল হক, সামাউন শেখ, হাবিবুর শেখ ও বাবর মোমিনরা ফোনে বলেন, কাগজপত্র দেখার নাম করে নিয়ে আসে। তারপর এখানে আটকে দেয়। বাড়ি থেকে সামশেরগঞ্জ থানার মারফত কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। সকালে বলছে, সন্ধ্যায় ছেড়ে দেওয়া হবে। আবার সন্ধ্যায় বলছে সকালে ছাড়া হবে। এইভাবে তিনদিন পার হয়ে গেল। ছাড়া পেলে বাড়ি চলে যাব। আর এখানে থাকব না। দোগাছি নপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সরস্বতী সরকার বলেন, শ্রমিকদের যাতে শীঘ্রই ছেড়ে দেওয়া হয়, সেব্যাপারে পুলিশকে বলেছি। ওঁদের পরিবারের লোকজন উদ্বেগে রয়েছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইমেল করা হয়েছে।