সংবাদদাতা, ডোমকল: বিজেপি শাসিত রাজ্য ওড়িশায় সাগরপাড়ার চার বাঙালি ফেরিওয়ালাকে পুলিশি হেনস্তার অভিযোগে ওড়িশা সরকারকে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দিল ওড়িশা হাইকোর্ট। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে পুরো ঘটনার বিবরণ লিখিতভাবে আদালতে জমা দিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২৭ নভেম্বর। অভিযোগ, ওইদিন ওড়িশার নয়াগড় জেলার ওদাগাঁও থানার পুলিশ একজন বাঙালি ফেরিওয়ালার ভাড়া বাড়িতে হানা দেয়। ঘরে ঢুকেই তাঁকে জেরা করা শুরু করে। বাংলায় কথা বলায় পুলিশ তাঁকে ‘রোহিঙ্গা’, ‘বাংলাদেশি’ বলে অপমান করে এবং বুকে লাথি মারা সহ শারীরিকভাবে হেনস্তা করে বলে অভিযোগ। পরে সন্ধ্যায় থানায় ডেকে নিয়ে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও তিনজনকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওড়িশা ছাড়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। আতঙ্কে ও ভয়ে চারজনই বাড়ি ফিরে আসেন।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই করিমপুরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে জেলা পুলিশের এসপিকে ট্যাগ করে বিস্তারিত জানিয়ে তিনি লেখেন, আমি আদালতে যাচ্ছি, প্রস্তুত থাকুন।
এরপর মহুয়া মৈত্রের সহায়তায় তাঁদের মধ্যে আব্দুস সালাম শেখ নামের এক ব্যক্তি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। গত ৯ ডিসেম্বর মামলাটি আদালতে ওঠে। আর তাতেই ওই রাজ্যের সরকারকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল ওড়িশা হাইকোর্ট। আদালত জানায়, রাজ্যের পক্ষের অতিরিক্ত সরকারি আইনজীবী সুমন পট্টনায়ককে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ সংগ্রহ করে দু’সপ্তাহের মধ্যে লিখিত হলফনামা দাখিল করতে হবে। আদালত আরও জানায়, রাজ্য হলফনামা দাখিল করলে মামলাকারীরা চাইলে তার এক সপ্তাহের মধ্যে পাল্টা-হলফনামা জমা দিতে পারবেন। বড়দিনের ছুটির পর কোর্ট খুললে এই সময়সীমা কার্যকর হবে। পাশপাশি পরবর্তী শুনানির জন্য ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি ধার্য করেছে আদালত।
তবে এই ঘটনা একক নয়। কয়েক সপ্তাহ আগেও ফেরি করতে যাওয়া সাগরপাড়ার এক শ্রমিককে মারধর করার অভিযোগ ওঠে। তখনও তাঁরও বুকে লাথি মারা হয় এবং ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করে। এর আগেও বাঙালি শ্রমিকদের হেনস্তার অভিযোগ সামনে এসেছে। ধারাবাহিকভাবে বাঙালিদের হেনস্তার ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এবার বিচার চাই।
পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ফারুক বলেন, ওড়িশায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাঙালি শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে ধন্যবাদ, যিনি বিষয়টি আদালত পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছেন। এখন ন্যায়বিচারের আশায় আমরা আদালতের দিকে তাকিয়ে আছি। মামলাকারী আব্দুস সালাম বলেন, আমরা মামলা দায়ের করেছি। আমারা শুধু ন্যায়বিচার চাই।