Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরীতে চোর সন্দেহে আটক বাংলার শ্রমিক

বাড়িতে না জানিয়ে পুরীতে রথযাত্রা দেখতে গিয়ে বিপত্তি

পুরীতে চোর সন্দেহে আটক বাংলার শ্রমিক
  • ৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বাড়িতে না জানিয়ে পুরীতে রথযাত্রা দেখতে গিয়ে বিপত্তি। অভিযোগ, বাংলায় কথা বলায় চোর সন্দেহে পাইকরের পঞ্চহর গ্রামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে জেলে পুড়ে দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে সোচ্চার হয়েছে পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চ। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি মহম্মদ রিপন বলেন, ওড়িশার সরকার বাঙালি বিদ্বেষী। ধিক্কার জানাই। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ওড়িয়া ফেরাও অভিযানে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করছি। 
বছর কুড়ির ওই যুবকের নাম প্রেম রাজবংশী। পেশায় রাজমিস্ত্রি। গত ২৬ জুন সে হঠাৎই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে ২৮ জুন পাইকর থানায় নিখোঁজের অভিযোগে দায়ের করেন। যেহেতু সে কিছুদিন ধরে পুরীর রথযাত্রা দেখতে যাওয়ার জন্য বলছিল, তাই বিষয়টি জানিয়ে পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের শরণাপন্ন হন বাবা হাবল রাজবংশী। সেই মতো মঞ্চের পক্ষ থেকে ওড়িশায় খোঁজখবর শুরু হয়। রিপন বলেন, পুরীর এসপির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করি। তিনি সমস্ত তথ্য নিলেও ওই যুবকের খোঁজ দিতে ব্যর্থ হন। তারপর সোর্স মারফত জানতে পারি, ছেলেটিকে মোবাইল চুরির কেসে গ্রেপ্তার করে বাঙ্গর ডিস্ট্রিক্ট জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সেই জেলে পৌঁছে ছেলের সঙ্গে দেখা করেন বাবা হাবল রাজবংশী। তিনি বলেন, ছেলে আমাকে জানায়, সে একটি দোকান থেকে জল কিনে খাচ্ছিল। কিছুটা দূরে চুরি সংক্রান্ত কোনও একটি গণ্ডগোল চলছিল। হঠাৎ পুলিস এসে ধরপাকড় শুরু করে। তখন সেখানকার পুলিস আমার ছেলেটিকে ওড়িয়া ভাষায় কিছু জিজ্ঞাসা করে। কিন্তু ছেলে বাংলা ভাষায় কথা বলায় তাঁকে চোর অপবাদ দিয়ে ধরে নিয়ে থানায় এসে একটি কাগজে সই করিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেয়। তিনি বলেন, আমরা দিনমজুরের কাজ করে খাই। কিন্তু চোর নই। ছেলের মুক্তির ব্যবস্থা করুক বাংলার সরকার। 
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নলহাটি ২ ব্লকের সুকরাবাদ গ্রামের ১৭ জন ও পাইকরের দুই পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলাদেশি সন্দেহে ওড়িশার রেমুনা থানায় আটকে রাখা হয়েছে। অভিযোগ, বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হচ্ছে। ভারতীয় নাগরিকত্বের নথিপত্র হিসাবে আধারকার্ড, ভোটারকার্ড দেখিয়েও ছাড় পাওয়া যাচ্ছে না।
রিপন বলেন, বাইরের রাজ্যের বহু মানুষ এখানে করেকম্মে খাচ্ছে। তাঁদের আমরা জামাই আদরে রাখছি। তাহলে এখানকার শ্রমিকদের ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে কেন অত্যাচারিত হতে হবে? তাহলে বাংলা থেকেও ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের বের করে দেওয়া হোক।  ওড়িশার জেলে বন্দি প্রেম রাজবংশী।

Advertisement

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ