নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: বাংলার বাইরে বাংলায় কথা বলছেন! তাহলে আপনি বাংলাদেশি। বাঙালি সম্পর্কে এমনই মনোভাব ছড়িয়ে পড়ছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে। আর তার শিকার হচ্ছেন পেটের টানে পশ্চিমবেঙ্গর বাইরে কাজ করতে যাওয়া বহু মানুষ।
হরিয়ানার গুরুগ্রামে সেক্টর-২৮ এ এমনই ঘটনা ঘটছে। শীতলকুচি বিধানসভার গোলেনাওহাটি, লালবাজারের বহু মানুষ হরিয়ানায় কর্মসূত্রে থাকেন। সেখানে তাঁরা শ্রমিকের কাজ করেন, ছোট দোকান চালান। আর মহিলারা পরিচারিকার কাজ করে থাকেন। সেখানে থাকা বাংলার বাসিন্দাদের সম্পর্কে হরিয়ানা পুলিস খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কোচবিহারের তৃণমূল নেতা পার্থপ্রতিম রায়।
তাঁর দাবি, কয়েকদিন ধরে শীতলকুচির এক শ্রমিককে সেখানকার পুলিস কয়েকবার থানায় ডেকেছে। বিভিন্ন নথিপত্র চাইছে। যেসব নিয়ে গেলেও আরও নথিপত্র চাওয়া হয়। এসবের ফলে চরম উদ্বেগে পড়েছেন সেখানে থাকা কোচবিহারের বাসিন্দারা।
কোচবিহারের প্রাক্তন এই সাংসদ বলেন, গুরুগ্রামের সেক্টর-২৮ এর কাছে একটি কলোনিতে শীতলকুচি ব্লকের শতাধিক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করেন। তাঁদের মধ্যে নস্যশেখ ভূমিপুত্র ও রাজবংশী মানুষ রয়েছেন। শীতলকুচির এক শ্রমিক আমাকে ফোন করে জানান, কয়েকদিন ধরে পুলিস তাঁদের মহল্লায় যাচ্ছে। খোঁজখবর নিচ্ছে। থানায় গিয়ে নথিপত্র দেখাতে বলছে। পুলিস দেখতে চাইছে তাঁরা বাংলার বাসিন্দা না বাংলাদেশি? ভোটার কার্ড, আধার কার্ড দেখালেও মানা হচ্ছে না। রেশন কার্ড, জমির দলিল, পুরনো ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে এমন সব নথি নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। এক শ্রমিককে পুলিস এসব দায়িত্ব দিয়েছে। প্রতিদিন কিছু মানুষকে নিয়ে গিয়ে নথি পরীক্ষা করাতে বলা হয়েছে তাঁকে। এঁদের অনেককেই আমি চিনি। বিজেপি শাসিত হরিয়ানার গুরুগ্রামে তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে। এটি উদ্বেগের বিষয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে বিষয়টি জানিয়েছি।
কোচবিহারের দিনহাটার সাদিয়ালেরকুঠির বাসিন্দা উত্তম ব্রজবাসীকে সম্প্রতি অসম থেকে এনআরসি সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। ক’দিন আগে সেই গুরুগ্রামেই হরিয়ানা পুলিস কোচবিহারের জিরানপুরের এক বাসিন্দাকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে বলে অভিযোগ উঠেছিল। এতে ওই পরিবার ভয় পেয়ে যায়। পরে ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বারবার এই ধরনের ঘটনাকে ভালো চোখে দেখছে না রাজ্যের শাসক দল। পার্থপ্রতিমবাবুকে অভিযোগ জানানো পরিযায়ী শ্রমিক সাদিকুল মিয়াঁ বৃহস্পতিবার টেলিফোনে বলেন, আমাকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। নথিপত্র চেয়েছিল। সেসব দেখিয়েছি। আরও কিছু নথিপত্র বাড়ি থেকে কারও মাধ্যমে নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। শুধু আমি নই, অনেকের কাছেই এসব চাইছে পুলিস।
যদিও বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, এসব অপপ্রচার করা হচ্ছে। যা নথিপত্র চাইছে, সেসব দিয়ে দিলেই তো ঝামেলা মিটে যায়।