Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজস্থানে বাঙালি বিদ্বেষ: দিনভর উৎকন্ঠায় ইটাহারের খিসাহারের প্রায় দেড়শো পরিবার

অপরাধ বাংলা ভাষায় কথা বলা। কপালে জুটল বাংলাদেশি তকমা। এই কারণে ইটাহারের খিসাহার গ্রামের দুই শতাধিক পরিযায়ী শ্রমিককে মঙ্গলবার আটক করে রাজস্থান পুলিস।

রাজস্থানে বাঙালি বিদ্বেষ: দিনভর উৎকন্ঠায় ইটাহারের খিসাহারের প্রায় দেড়শো পরিবার
  • ২৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দিবাকর মজুমদার, ইটাহার: অপরাধ বাংলা ভাষায় কথা বলা। কপালে জুটল বাংলাদেশি তকমা। এই কারণে ইটাহারের খিসাহার গ্রামের দুই শতাধিক পরিযায়ী শ্রমিককে মঙ্গলবার আটক করে রাজস্থান পুলিস। ভিনরাজ্যে পরিজনরা কী অবস্থায় আছে, সেই চিন্তায় নাওয়া খাওয়া ছেড়ে সকাল থেকে আতঙ্কে দিন কাটালেন খিসাহারের বাহারুন, সলিমুদ্দিন, সালেকারা। যা নিয়ে বিধানসভায় সরব হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এলাকাবাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ইটাহারের বিধায়ক থেকে স্থানীয় প্রধান ও জনপ্রতিনিধিরা। বেলাশেষে পরিজনের সঙ্গে কথা বলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ধন্যবাদ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়ককে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, খিসাহার গ্রামের সাত শতাধিক বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিক। তার মধ্যে দুই শতাধিক বাসিন্দা রাজস্থানে রয়েছেন। স্ত্রী, সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা বর্তমানে রয়েছেন রাজস্থানের আলবার জেলার ফুলবাগ থানার সৈয়দপুর এলাকায়। সেখানে পুরুষরা কেউ সাফাই, আবার কেউ দিনমজুর এবং মহিলারা পরিচারিকার কাজ করেন। প্রত্যেকের বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধ মা-বাবা। তাঁরা মঙ্গলবার সকালে ফোনে কথা বলে জানতে পারেন তাঁদের পরিজনদের আটক করেছে রাজস্থান পুলিস। তাঁদের কাছে বৈধ কাগজ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশি তকমা দিয়ে আটক করেছে পুলিস। এদিকে উদ্বেগ নিয়ে বাড়িতে বসে তাঁদের পরিজনরা। এবিষয়ে বৃদ্ধা বাহারুন বেওয়া বলেন, আমি অসুস্থ। এখানে নাতনিকে নিয়ে থাকি। ছেলে, বউমাকে আটক করেছে শুনে বুকটা ধড়ফড় করছে।
অন্যদিকে, সলিমুদ্দিন শেখের ছেলে সায়েদ আলি ১০ বছর রাজস্থানে থাকেন। এদিন শুনছেন সকালে কাজে যাওয়ার সময় তাঁদেরকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করেছে পুলিস। সলিমুদ্দিন বলেন, আমরা গরিব মানুষ। পেট চালাতে ছেলেরা ভিনরাজ্যে গিয়েছে। কিন্তু কেন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশি বলে বারবার আটকে রেখে হেনস্তা করবে ভিনরাজ্যের পুলিস? এটা মানা যায় না। 
খিসাহারের এক বাসিন্দা কইফা বিবির স্বামী নেই। গ্রামে মা সালেকা বিবির কাছে মেয়েকে রেখে রাজস্থানে পরিচারিকার কাজে গিয়েছেন কইফা। তাঁকেও আটক করেছিল রাজস্থান পুলিস। এবিষয়ে সালেকা বলেন, ভেবেছিলাম আর হয়তো স্বামীহারা মেয়েটার মুখ দেখতে পাব না। নাতনিটাও মায়ের সঙ্গে কথা বলবে বলে কান্নাকাটি করেছে সারাদিন। সন্ধ্যায় মেয়ে ফোন করে বলল তাকে ছেড়েছে পুলিস। 
এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন মারনাই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আঞ্জুরা বিবি। তিনি গ্রামের মানুষদের সাহস জোগাচ্ছেন। আঞ্জুরা বলেন, সকাল থেকে আমরা সবাই আতঙ্কে ছিলাম। বিধায়ককে বিষয়টি জানাই। সন্ধ্যায় শুনলাম তাঁদের ছাড়তে শুরু করেছে। পরিজনদের ছেড়েছে শুনে খিসাহারবাসী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিধায়ক মোশারফ হুসেনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
এবিষয়ে বিধায়ক মোশারফ বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে মুখ্যমন্ত্রীকে জানাই। বাংলার তথা ইটাহারের পরিযায়ী শ্রমিকদের বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে হেনস্তা করা কোনও ভাবে মানা যায় না। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ