Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হরিয়ানায় বাঙালি হেনস্তা, আতঙ্কে ভুগছেন কাটোয়ার ঘোড়ানাশের পরিযায়ী শ্রমিকরা

একের পর বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের টার্গেট করা হচ্ছে। এবার হরিয়ানার গুরগাঁওতেও বাংলাদেশি সন্দেহে বাঙালি হেনস্তার অভিযোগ উঠছে। আতঙ্কে ভুগছেন কাটোয়ার ঘোড়ানাশ গ্রামের ১৫জন পরিয়ায়ী শ্রমিক।

হরিয়ানায় বাঙালি হেনস্তা, আতঙ্কে ভুগছেন কাটোয়ার ঘোড়ানাশের পরিযায়ী শ্রমিকরা
  • ২৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: একের পর বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের টার্গেট করা হচ্ছে। এবার হরিয়ানার গুরগাঁওতেও বাংলাদেশি সন্দেহে বাঙালি হেনস্তার অভিযোগ উঠছে। আতঙ্কে ভুগছেন কাটোয়ার ঘোড়ানাশ গ্রামের ১৫জন পরিয়ায়ী শ্রমিক। নথিপত্র চেয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হচ্ছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। কাটোয়া-২ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ গৌতম ঘোষাল বলেন, ঘোড়ানাশ গ্রামের ১৫-২০জন পরিযায়ী শ্রমিক গুরগাঁওতে রয়েছেন। তাঁরা সেখানে বিভিন্ন কাজ করেন। তাঁদের সামনেই বাঙালিদের হেনস্তা করা হচ্ছে। তাঁদের পরিবারের লোকজন অসহায়ভাবে আমাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। তাঁরা ভারতীয় বাসিন্দার নথিপত্র চাইছেন। আমরা পুলিস-প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। 

Advertisement

কয়েকদিন আগেই কেতুগ্রামের চরসুজাপুর গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিকদের ওড়িশায় আটক করা হয়েছিল। এবার হরিয়ানার গুরগাঁওতে বাঙালি হেনস্তা শুরু হয়েছে। জগদানন্দপুরের ঘোড়ানাশ গ্রামের বাসিন্দা কেউ সেখানে ওলা বাইক চালান। আবার বহু মহিলা সেখানে পরিচারিকার কাজও করেন। গ্রামের বাসিন্দা গোবিন্দ হাজরা সেখান থেকে ফোনে বলেন, ‘আমরা খুব আতঙ্কে রয়েছি। আমাদের চোখের সামনে বাঙালিদের তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করছে। মোবাইল কেড়ে নিচ্ছে। বাংলায় কথা বললেই হেনস্তা করা হচ্ছে। স্ত্রী, ছোট মেয়েকে নিয়ে খুব আতঙ্কে রয়েছি।’ 
ওই গ্রামের বাসিন্দা তারক হাজরা বলেন, আমার দাদা লাল্টু হাজরা সহ কয়েকজন সেখানে রয়েছে। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড মানছে না। জমির দলিল দেখতে চাইছে। কাজ করতে গিয়ে সেখানে কি জমির দলিল সঙ্গে নিয়ে যাওয়া যায়? 
পরিযায়ী শ্রমিক অনুপ হাজরা বলেন, চোখের সামনে হরিয়ানা পুলিস বাঙালিদের মারধর করছে। এখানে পেটের দায়ে কাজ করতে এসেছি। কোন পরিচয়পত্র দেখালে বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হবে না, সেটাই বুঝতে পারছি না। অনেককে ‘পুশব্যাক’ করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলছে। আমাদের কোয়ার্টারের পাশেই এসব হচ্ছে। অনুপবাবুর মা বাসন্তী হাজরা বলেন, আমার অপারেশন হয়েছে। স্বামীর বয়স হয়েছে। পেটের দায়ে ছেলেটা কাজ করতে ভিনরাজ্যে গিয়েছে। এখন কী করব বুঝতে পারছি না। পঞ্চায়েতে গিয়েছিলাম। এমন কিছু নথি দেওয়া হোক, যাতে ছেলে নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ করতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ