Bartaman Logo
১৬ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৭টি পণ্যের জিআই তকমা পেল বাংলা, নতুন গুড়ের সন্দেশ থেকে বারুইপুরের পেয়ারা

একসঙ্গে একগুচ্ছ পণ্যের জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন বা জিআই তকমা পেল বাংলা। তালিকায় আছে নতুন গুড়ের সন্দেশ থেকে শুরু করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের পেয়ারা।

৭টি পণ্যের জিআই তকমা পেল বাংলা, নতুন গুড়ের সন্দেশ থেকে বারুইপুরের পেয়ারা
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: একসঙ্গে একগুচ্ছ পণ্যের জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন বা জিআই তকমা পেল বাংলা। তালিকায় আছে নতুন গুড়ের সন্দেশ থেকে শুরু করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের পেয়ারা। এই স্বীকৃতি বাংলার পণ্যগুলির বিপণনে বিশেষ সুবিধা করে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে আছে হরেক পণ্য বা প্রাকৃতিক সম্পদ। তাদের বাণিজ্যিক বা অর্থকরী গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু মেধাসত্ত্বের অভাবে সেসব পণ্যের যথাযথ বাণি঩জ্যিক ব্যবহার হয় না। বিশ্বের দরবারে পণ্যগুলিকে যথাযথ মর্যাদা দিতেই পেটেন্ট বা কপিরাইটের মতোই জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশনের উপর গুরুত্ব দিতে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্য সরকারও বাংলার নিজস্ব পণ্যকে স্বীকৃতি দিতে সব রকমের সহায়তা দিতে শুরু করে। ইতিমধ্যেই বাংলায় বহু পণ্য জিআই তকমা পেয়েছে। তাতে নতুন করে যোগ হল আরও সাতটি পণ্য। সেগুলি হল বাংলার নলেন গুড়ের সন্দেশ, কামারপুকুরের সাদা বোঁদে, মুর্শিদাবাদের ছানাবড়া, বিষ্ণুপুরের মতিচুরের লাড্ডু, রাঁধুনিপাগল চাল, বারুইপুরের পেয়ারা এবং মালদহের নিস্তারি সিল্ক সুতো। 
জিআই কী? সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, যদি কোনও পণ্য বা প্রাকৃতিক সম্পদ কোনও একটি নির্দিষ্ট এলাকায় উৎপাদিত হয় বা প্রসিদ্ধি লাভ করে, তাহলে সেই পণ্য বা সম্পদটির জিআই স্বীকৃতি পাওয়া যায়। এই তকমায় সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে পণ্যটির বাণিজ্য বৃদ্ধি সম্ভব হয়। দার্জিলিং চা, সুন্দরবনের মধু থেকে শুরু করে বাংলার রসগোল্লা বা তুলাইপাঞ্জি চাল এমনই পণ্য, যেগুলি ইতিমধ্যেই জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে।   
রাঁধুনিপাগল চালের জন্য জিআইয়ের আবেদন করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরের স্টেট এগ্রিকালচারাল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এক্সটেনশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। কৃষিপণ্য বিভাগে এই পণ্যের আবেদন করে তারা। বারুইপুর ফার্মার্স প্রোডিউসার কোম্পানির তরফে একই বিভাগে আবেদন করা হয়েছিল বারুইপুরের পেয়ারারও। রাজ্যের মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের অন্যতম সংগঠন মিষ্টি উদ্যোগের তরফে জিআইয়ের আবেদন করা হয় কামারপুকুরের সাদা বোঁদে, মুর্শিদাবাদের ছানাবড়া, বিষ্ণুপুরের মতিচুরের লাড্ডু এবং বাংলার নলেন গুড়ের সন্দেশের জন্য। মালদহ সিল্ক ইয়ার্ন প্রোডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন আবেদন জানায় তাদের নিজস্ব রেশন সুতোর জিআই স্বীকৃতির জন্য। মিষ্টি উদ্যোগের প্রেসিডেন্ট ধীমান দাশের কথায়, এর আগে বাংলা থেকে রসগোল্লার পাশাপাশি জয়নগরের মোয়া, বর্ধমানের মিহিদানা ও সীতাভোগের মতো বাঙালির অতি প্রিয় মিষ্টিগুলি জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই তালিকায় আরও কয়েকটি মিষ্টি যুক্ত হওয়ায় আমরা খুশি। আরও কিছু মিষ্টান্নের জন্য আবেদন জমা পড়েছে। আশা করি সেগুলিও স্বীকৃত হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ