নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: গত সোমবার বাংলাদেশের উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজের ধাক্কায় একটি ট্রলার ডুবে গিয়েছিল। তারপর কেটে গিয়েছে তিনদিন। এখনও খোঁজ মেলেনি তিন মৎস্যজীবীর। সেই ঘটনার পর চরম আতঙ্কিত অন্যান্য ট্রলারের মাঝি থেকে শুরু করে অন্যান্য সদস্যরা। তাই অনেকেই মাছ না ধরে প্রাণের ভয়ে উপকূলে ফিরতে শুরু করেছে। কিছু লোক ইতিমধ্যে ফিরেও এসেছেন। এমন কাণ্ড ঘটে যেতেই নড়েচড়ে বসেছে বিভিন্ন মৎস্যজীবী সংগঠন। সবার সুরক্ষার স্বার্থে তাই ট্রলারগুলিকে ভারত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমানা থেকে অন্তত ১০ কিলোমিটার (৫.৪ নটিক্যাল মাইল) ভিতরে মাছ ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাতে বিপদ কম থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে বাংলাদেশ উপকূলরক্ষীর এহেন অমানবিক কীর্তি নিয়ে ফুঁসছেন কাকদ্বীপ নামখানার মৎস্যজীবীদের একাংশ। এই বিষয়ে শ্যামল দাস নামে এক মৎস্যজীবী বলেন, এমন ঘটনা অতীতে কোনওদিন ঘটেনি। এখন আন্তর্জাতিক জলসীমার কাছে গিয়ে মাছ ধরতেই ভয় লাগছে। ভবিষ্যতে আবারও এমন করতে পারে ওরা। তাই আতঙ্কে ট্রলার নিয়ে উপকূলে ফিরে এসেছি। বিস্তারিতভাবে সংগঠনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে মাছ ধরার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকতে হবে মৎস্যজীবীদের, এমনটাই দাবি ট্রলার মালিক ও অন্যান্য মহলের। তাঁরা কোন জায়গায় জাল ফেলছেন সেটাও দেখে নিতে হবে।
কাকদ্বীপ ফিশারম্যান ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজন মাইতি বলেন, ‘এবার থেকে আন্তর্জাতিক জল সীমার প্রায় ১০ কিলোমিটার ভিতরে মাছ ধরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে বাংলাদেশের উপকূলরক্ষী বাহিনীর কোনও জাহাজ এদের কাছাকাছি না আসতে পারে।’ এদিকে, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দাবিতে মৎস্যজীবীরা বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও পথসভা করবেন বলে ঠিক করেছেন। পাশাপাশি ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর হাতে আটক ৩৫ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে বৃহস্পতিবার কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁদের ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন।