নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মাসদু’য়েক পরেই শুরু হচ্ছে উৎসবের মরশুম। দুর্গাপুজো, কালীপুজো, দীপাবলি, ভাইফোঁটা, ছট—তালিকা দীর্ঘ। এই পর্বে ভিড় নিয়ে এখন থেকেই চিন্তা বাড়ছে রেল কর্তৃপক্ষের। তাদের আশঙ্কা, এবারও ট্রেনের চাহিদা সামাল দেওয়া দুষ্কর হতে পারে। বিশেষত কনফার্মড টিকিট নিয়েই বেশি আতঙ্ক দানা বাঁধছে। ইতিমধ্যে আইআরসিটিসির (ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন) নতুন ‘বিটা’ ভার্সন চালু করেছে রেলমন্ত্রক। কিন্তু নয়া ওয়েবসাইট চালুর পরেও কি এসংক্রান্ত সমস্যা কমবে? রেলে বন্ধ হবে ডিজিটাল দালালরাজ? আপাতত এনিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে রেলভবনের অন্দরেই। রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, মূলত ডিজিটাল দালালরাজ রুখতে উৎসবের মরশুম শুরুর অন্তত দু’মাস আগে থেকেই এসংক্রান্ত নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। রেলের সাইবার বিশেষজ্ঞদের এব্যাপারে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জানা যাচ্ছে, এবার সবচেয়ে বেশি উৎসব স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা করা হতে পারে পূর্ব রেলে। অর্থাৎ, বাংলায়।
রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ভাইফোঁটায় হাজার হাজার বাঙালি প্রতি বছর ভিন রাজ্য থেকে বাংলায় ফেরেন। ছুটিতে ঘুরতে যাওয়া বাঙালির সংখ্যাও কম নয়। এই পরিস্থিতিতে বাংলার জন্য দেশের মধ্যে সবথেকে বেশি উৎসব স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা করে আদতে বঙ্গ বিজয়ের ‘পুরস্কার’ দিতে উদ্যোগী হয়েছে মোদি সরকার। যদিও এনিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য বাড়তি ট্রেন চালানোর পাশাপাশি রেলস্টেশনের পরিকাঠামোগত মানোন্নয়নের উপরেও ভরসা রাখছে মন্ত্রক। রেল কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়টিও।
গত বুধবার লোকসভায় সাংসদ মালা রায়ের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, বাংলার ১৩টি স্টেশনে অমৃত ভারত প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। আরও পাঁচটি স্টেশনে এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়িত হওয়ার পথে। অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে বাংলার রেলওয়ে জোনগুলির জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে মোট ১ হাজার ২৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে গত জুন মাস পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ৪৭১ কোটি টাকা।