Bartaman Logo
৭ আগস্ট, ২০২৬

ব্যস্ততার দোহাই! ভিডিয়ো কলেই বাবার শেষকৃত্যে হাজির তিন মেয়ে

‘আর কতক্ষণ লাগবে? আমার স্নান করতে হবে, তারপর খেতেও তো হবে!’— হরিয়ানার সোনিপতে শেষকৃত্য চলছে বাবার।

ব্যস্ততার দোহাই! ভিডিয়ো কলেই  বাবার শেষকৃত্যে হাজির তিন মেয়ে
  • ৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোনিপত: ‘আর কতক্ষণ লাগবে? আমার স্নান করতে হবে, তারপর খেতেও তো হবে!’— হরিয়ানার সোনিপতে শেষকৃত্য চলছে বাবার। ঠিক সেই সময়েই ভিডিয়ো কলে হাজির থেকে এহেন মন্তব্য করতে শোনা গেল এক মেয়েকে। নেপাল, উত্তরপ্রদেশ এবং মুম্বইয়ে তিন মেয়ের সুখের সংসার। তিল তিল পরিশ্রম করে তিন মেয়েকেই জীবনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন শিবচরণ রামরতন গুপ্তা। অথচ যে বাবার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসাবে তাঁরা এই সুখের দিন দেখেছেন, তাঁর শেষযাত্রাতেই তিন মেয়ে হাজির থাকলেন না। শুধু এক মেয়ে শেষকৃত্যের খরচ বাবদ ৫ হাজার ১০০ টাকা অনলাইনে পাঠিয়ে দায় সারলেন।

Advertisement

অনিতা, নিশা এবং প্রিয়াকে বিয়ে দেওয়ার পর শিবচরণ স্ত্রীকে নিয়ে সোনিপতের এক বৃদ্ধাশ্রমে চলে এসেছিলেন। স্ত্রী মীনা আগেই মারা গিয়েছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ মৃত্যু হয় শিবচরণের। বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করে পাড়ার বেশ কয়েকজন প্রবীণ। ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে হাজির হননি তিন মেয়ের কেউই। বৃদ্ধাশ্রমের প্রশাসক আনন্দ কুমার জানান, শিবচরণ মাঝেমধ্যে ফোনে তাঁর মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতেন। তবে দিন কুড়ি আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর মেয়েদের দিক থেকে ফোন আসা অনেকটাই কমে যায়। মঙ্গলবার শিবচরণের মৃত্যুর পর তাঁর তিন মেয়েকে খবর দেওয়া হয়। তাঁরা জানিয়ে দেন, ‘খুবই ব্যস্ত। আসা সম্ভব নয়।’ আনন্দই জানান, ভিডিয়ো কল চলাকালীন এক মেয়েকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘শেষকৃত্য কতক্ষণে শেষ হবে? আমাকে স্নান করতে হবে, খেতে হবে।’
বৃদ্ধাশ্রম সূত্রে খবর, শিবচরণ 
তাঁর চোখ দান করে গিয়েছেন। এটাই ছিল তাঁর শেষ ইচ্ছা। বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ তিন মেয়ের অনুমতি নিয়ে সেই ইচ্ছা পূরণ করেছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ