Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গেরুয়া জমিতেই হদিশ নেই বহু ভোটারের অসম-আতঙ্কে বঙ্গের বিজেপি, বৈধরা বাদ পড়লে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি নেতাদের

অন্যকে চাপে ফেলতে গিয়ে নিজেরাই এখন বেসামাল! গ্রাস করছে আতঙ্কও! ঠিক যেমনটা ঘটেছে অসমে।

গেরুয়া জমিতেই হদিশ নেই বহু ভোটারের অসম-আতঙ্কে বঙ্গের বিজেপি, বৈধরা বাদ পড়লে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি নেতাদের
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: অন্যকে চাপে ফেলতে গিয়ে নিজেরাই এখন বেসামাল! গ্রাস করছে আতঙ্কও! ঠিক যেমনটা ঘটেছে অসমে। 

Advertisement

অসমে এনআরসি’তে ঠাঁই পায়নি প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষ। সারা অসম বাঙালি ছাত্র ফেডারেশনের দাবি, এর মধ্যে ১০-১২ লক্ষই হিন্দু। অথচ, বিজেপি চেয়েছিল, একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বেশি সংখ্যক কাটা যাবে। হয়েছে ঠিক তার উল্টো। বাংলায় ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের কাজ (এসআইআর) চলছে জোরকদমে। তাতেই অসম-আতঙ্কে কাঁপতে শুরু করেছেন বাংলার বিজেপি নেতারা। 
বাংলায় এসআইআরের ফর্ম বিলির কাজ প্রায় শেষের পর্যায়ে। সেখানে যা তথ্য উঠে আসছে, তা গেরুয়া ব্রিগেডের কাছে মোটেও সুখকর নয়। 
বিজেপির প্রায় প্রতিটি উত্থান ভূমিতে গিয়ে বিএলও’রা দেখতে পাচ্ছেন, বহু ভোটারের হদিশই নেই। অথবা, ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম নেই। যাঁরা মূলত বিজেপির শক্তিবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা নিয়ে আসছিলেন। আবার বিশেষ সম্প্রদায় অধ্যুষিত জেলাগুলিতে যে বহু সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ার আশা করেছিলেন পদ্ম নেতারা, সেই গুড়েও বালি পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলত, দু’দিক থেকেই কার্যত সাঁড়াশি চাপে বঙ্গ বিজেপি। যা নিয়ে তোলপাড় চলছে বিজেপির অন্দরে। তবে, দলের নেতারা মুখে বলছেন, কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে আন্দোলনে নামবেন। কিন্তু, ‘বৈধ ভোটার’-এর সংজ্ঞা নিরুপণ করতে গিয়েও তাঁরা হোঁচট খাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে গলায় কাঁটার মতো বিঁধছে মতুয়া সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশের ভোট।
অতীতে বিজেপি পশ্চিম বর্ধমান, দার্জিলিং, নদীয়া, পুরুলিয়া সহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভালো ফল করেছিল। ছাব্বিশের ভোটেও ভরসা উত্তরবঙ্গ। অথচ, বিএলওদের প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, বিজেপির এইসব খাসতালুকেই খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বহু সংখ্যক ভোটারের।  ঠিকানা রয়েছে। লোক নেই। প্রশ্ন হল, তাঁরা গেলেন কোথায়? জবাব মিলেছে পদ্মের একদা গড় আসানসোল সহ হিন্দি ভাষাভাষি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে। বিএলওরা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছেন, এইসব এলাকার বহু মানুষের ভোট দু’টি রাজ্যে রয়েছে। যাঁদের একটা বড় অংশ শ্রমিক শ্রেণির। বাংলায় কাজে এসে ভোটার হয়েছেন। আবার তিনি যে রাজ্যের বাসিন্দা সেখানকার তালিকাতেও নাম রয়েছে। বিজেপির বাংলা বিজয়ের স্বপ্নে এসব ভোটাররা অনুঘটকের কাজ করেছিলেন বলে রাজনীতির কারবারিদের মত। 
এদিকে, মুর্শিদাবাদ, মালদহের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা এবং পূর্ব বর্ধমান, নদীয়ায় সংখ্যালঘু বসবাসকারী এলাকায় বহু ভুয়ো ভোটার লুকিয়ে রয়েছেন বলে বিজেপি দাবি করে আসছিল। বাস্তবে ঘটেছে উল্টো। ওইসব জেলা ও এলাকাগুলি থেকে দলের প্রতি সহানুভূতিশীল ভোটারের নাম বেশি বাদ যাবে বলে বিজেপি নেতারা আশঙ্কা করছেন। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম বর্ধমানে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৮৬.২৯ শতাংশ ফর্ম বিলি হয়েছে। বহু ভোটারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দার্জিলিংয়ে ৮৯.৮৬ ভোটার ফর্ম পেয়েছেন। অনেক ভোটারের ঠিকানায় পৌঁছেও সন্ধান পাননি বিএলওরা। 
নদীয়ায় মতুয়াদের ভোটে বলিয়ান বিজেপি। এই জেলার এখনও প্রায় ৯ শতাংশ ভোটার বিএলওদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। অন্যদিকে, মালদহে প্রায় ৯৪ এবং মুর্শিদাবাদে প্রায় ৯২ শতাংশর বেশি ভোটারের কাছে ফর্ম পৌঁছে গিয়েছে। এক আধিকারিক বলছিলেন, যেসব জেলায় ফর্ম বিলির কাজ বাকি থেকে যাচ্ছে, সেখানে বহু নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 
বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র অবশ্য বলেছেন, ‘আমরা প্রথম থেকে বলে আসছি, বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেলে আন্দোলন করব। মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়ার দাবিতেও সরব হয়েছি।’ তৃণমূল নেতা খোকন দাস বলেন, ‘সবটাই বিজেপির জুমলা।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ