Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে ফের দেশের সেরা বাংলা, সর্বাধিক অ্যাকাউন্ট তামিলনাড়ুতে

স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে দেশের সেরা পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থমন্ত্রকের আওতায় থাকা সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে যে পরিমাণ টাকা জমা পড়েছে, তার নিরিখে প্রথম স্থান পেয়েছে বাংলা।

স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে ফের দেশের সেরা বাংলা, সর্বাধিক অ্যাকাউন্ট তামিলনাড়ুতে
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে দেশের সেরা পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থমন্ত্রকের আওতায় থাকা সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে যে পরিমাণ টাকা জমা পড়েছে, তার নিরিখে প্রথম স্থান পেয়েছে বাংলা। যদিও স্বল্প সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের স্থান তিন নম্বরে। এরাজ্যের আগে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু। বিগত কয়েক বছর ধরে দেশজুড়েই ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের হার ধাক্কা খেয়েছে। গৃহস্থের টাকা জমানোর প্রবণতা কমেছে। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সঞ্চয় প্রবণতা কমে যাওয়া অর্থনৈতিক দিক থেকেও ধাক্কা, বলছেন অর্থনীতিবিদরা। এই পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান শীর্ষে থাকা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। 

Advertisement

ডাক বিভাগের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে স্বল্প সঞ্চয় বাবদ জমা পড়েছে প্রায় ২ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে আছে মহারাষ্ট্র। সেখানে সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা। তিন নম্বর স্থানে থাকা উত্তরপ্রদেশে সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ ১ লক্ষ ৫২ হাজার কোটি টাকা। এ রাজ্যে যে প্রকল্পগুলিতে মানুষ টাকা রেখেছেন, তার মধ্যে সবার আগে আছে মান্থলি ইনকাম স্কিম বা এমআইএস। ৬৬ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে টাইম ডিপোজিট বা মেয়াদি জমা। এক থেকে পাঁচ বছরের মেয়াদি আমানতে জমা হওয়া টাকার মোট অঙ্ক ৬০ হাজার ৯২৮ কোটি। এরাজ্যে রেকারিং ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে ১৪ হাজার ১০৯ কোটি টাকা। পিপিএফে জমা হয়েছে ৯ হাজার ৬০৮ কোটি  টাকা। 
সঞ্চিত টাকার নিরিখে রাজ্য এগিয়ে থাকলেও অ্যাকাউন্ট খোলার নিরিখে এগিয়ে রয়েছে তালিমনাড়ু। সবক’টি স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্প মিলিয়ে সেখানে মোট অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লক্ষ। এরপর রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, যেখানে মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৩ কোটি ১৩ লক্ষ। তিন নম্বরে থাকা পশ্চিমবঙ্গে সেই সংখ্যা ২ কোটি ২১ লক্ষ ৬২ হাজার। অর্থাৎ স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পের সংখ্যার নিরিখে রাজ্য সামান্য পিছিয়ে থাকলেও মোট সঞ্চয়ে এগিয়ে আছে বাংলা। এখানে অ্যাকাউন্ট প্রতি টাকা জমা করার হার বেশি। এ রাজ্যে সবচেয়ে বেশি খোলা হয়েছে পোস্ট অফিস সেভিংস অ্যাকাউন্ট, যার সংখ্যা ৮৪ লক্ষ ৮০ হাজার। এরপর রয়েছে রেকারিং ডিপোজিটের স্থান। তার সংখ্যা ৫০ লক্ষ ২০ হাজার। প্রসঙ্গত, রেকারিং ডিপোজিটই একমাত্র প্রকল্প, যেটির এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারেন একমাত্র মহিলারা। এখানে কমিশনের হারও সবচেয়ে বেশি, চার শতাংশ। এজেন্টদের একাংশের বক্তব্য, একদিকে সঞ্চয়ের অঙ্ক কমে যাওয়া নিয়ে হাহুতাশ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। অন্যদিকে তারা স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে কমিশন বাড়াতে রাজি নয়। উলটে তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা, পিপিএফের মতো কয়েকটি প্রকল্পে তুলে দেওয়া হয়েছে কমিশন প্রথা। অথচ পরিসংখ্যান প্রমাণ করে দিচ্ছে, এজেন্টরাই এখনও সঞ্চয় প্রকল্প বিক্রির ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষকে যদি নির্ভরযোগ্য সঞ্চয় প্রকল্পের প্রতি আকৃষ্ট করতে হয়, তাহলে প্রকল্পগুলির সুদ বৃদ্ধির পাশাপাশি কমিশন প্রথায়ও জোর দেওয়া জরুরি।

সম্পর্কিত সংবাদ