Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

উপকারী ওটস

এখন যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেক সামগ্রী এসেছে বাজারে। তবুও রূপটানে হাতের কাছে থাকা কিছু উপকরণ দিয়ে ঘরোয়া পরিচর্যার কোনও বিকল্প নেই। তেমনই ওটস। ইদানীং স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে ওটস ডায়েটের অন্যতম অঙ্গ।

উপকারী  ওটস
  • ২১ জুন, ২০২৫ ০৪:০১
Prefer us on Google

রূপচর্চায় ঘরোয়া উপাদান বড় ভরসা। তেমনই একটি উপকরণ ওটস। কীভাবে ব্যবহার করবেন?

Advertisement

 এখন যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেক সামগ্রী এসেছে বাজারে। তবুও রূপটানে হাতের কাছে থাকা কিছু উপকরণ দিয়ে ঘরোয়া পরিচর্যার কোনও বিকল্প নেই। তেমনই ওটস। ইদানীং স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে ওটস ডায়েটের অন্যতম অঙ্গ। অনেকের বাড়িতেই চাইলে ওটস খুঁজে পাওয়া যাবে। খাওয়ার পাশাপাশি ওটসকে শামিল করতে পারেন রূপরুটিনেও। 
ক্লেনজিং, এক্সফোলিয়েশন, ময়েশ্চারাইজ সবই করা সম্ভব ওটস দিয়ে। ওটসে আছে উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ত্বকে বয়সের ভাঁজ দূরে রাখতে সাহায্য করে ওটস। সঙ্গে ত্বকের জ্বালাভাব কমায়। ওটসে থাকা স্যাপোনিন নামে উপাদান ত্বকের ময়লা দূর করতে সহায়ক হয়। 
শুষ্ক ত্বকের জন্য খুব উপকারী ওটস। ত্বককে আর্দ্র রাখতে পারে। মুখ পরিষ্কার করার জন্য ওটস প্রথমে গুঁড়ো করে নিন। এবার জল, দুধ অথবা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে নিন ওটসের গুঁড়ো। খেয়াল রাখবেন যেন খুব ঘন না হয় ওই মিশ্রণ। এই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে সার্কুলার মোশনে হালকা মাসাজ করুন। তারপর সামান্য উষ্ণ জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতিতে ভেতর থেকে ত্বকের ময়লা সাফ হবে। ত্বক নরমও হবে। 
যখন ডিপ ক্লেনজিংয়ের কথা ভাববেন তখন ওটস দিয়ে স্ক্রাব করে মুখের যত্ন করতে পারেন। ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে ওটস-এর জুড়ি মেলা ভার। মিক্সারে ওটস ভালো করে গুঁড়ো করে নিন। এবার ওটস গুঁড়ো মেশাতে পারেন আমন্ড অথবা জোজোবা তেলের সঙ্গে। তা না থাকলে ওটস মিশিয়ে নিন দুধে। কিন্তু এই মিশ্রণটা একটু ঘন হবে। অর্থাৎ ওটস গুঁড়োর পরিমাণ একটু বেশি থাকবে। ভালো করে স্ক্রাব করার জন্য এই মিশ্রণে চাইলে সামান্য চিনিও যোগ করতে পারেন। এবার এই পেস্ট ভেজা মুখে লাগিয়ে নিন। এরপর এক মিনিট ধরে ভালো করে মাসাজ করুন। চিনি মিলিয়ে আসবে ক্রমশ। বুঝবেন স্ক্রাবিং শেষ। নজর রাখবেন, খুব বেশি জোরে ঘষবেন না, কারণ মুখের ত্বক খুব নরম ও পাতলা। স্ক্রাব করা হয়ে গেলে হালকা উষ্ণ জলে মুখ ধুয়ে নিন। শেষে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। বডি স্ক্রাব হিসেবেও এই মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন। সার্বিকভাবে ত্বকের মৃত কোষ দূর হবে, ত্বক সজীব ও মসৃণ হবে। তবে ত্বকে কোনওরকম সংক্রমণ থাকলে কোনও ধরনের স্ক্রাবই ব্যবহার করা উচিত নয়। 
ওটস দিয়ে ফেসপ্যাকও বানাতে পারেন। শুধুমাত্র ওটস গুঁড়ো আর জল দিয়ে বানানো ফেসপ্যাকেও উপকার পাবেন। দু’চামচ ওটস গুঁড়ো আর পরিমাণ মতো জল মেশান যাতে একটা পেস্ট তৈরি হয়। এবার এই পেস্ট মুখে লাগিয়ে রাখুন মিনিট দশ-পনেরো। কেউ চাইলে এই মিশ্রণে মিশিয়ে নিতে পারেন একচামচ টক দই এবং কয়েক ফোঁটা মধু। কেউ ফেসপ্যাক তৈরি করে নিন দু’চামচ ওটস গুঁড়ো, এক চামচ দুধ, কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে। এই প্যাক মুখে উজ্জ্বলতা আনবে। 
শুষ্ক ত্বকের জন্য দু’চামচ ওটস গুঁড়োর সঙ্গে এক চামচ গুঁড়ো করা আমন্ড এবং এক চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। ত্বকের বলিরেখা দূর করার জন্য দু’চামচ ওটস গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু ও একটা পাকা কলা চটকে মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে ফেলুন। 
যাঁরা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে চান, তাঁদের জন্য দু’চামচ ওটস গুঁ‌ড়োর সঙ্গে এক চামচ দই ও এক চামচ হলুদ গুঁড়োর মিশ্রণে তৈরি ফেসপ্যাক উপযুক্ত। মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করে মুখে লাগিয়ে রাখুন ১৫-২০ মিনিট। তারপর ঈষদুষ্ণ জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। 
কেউ যদি ডিটক্স করার জন্য ওটস দিয়ে ফেসপ্যাক চান, তিনি কী করবেন? দু’চামচ  ওটস গুঁড়ো এবং এক চামচ ঠান্ডা গ্রিন টি মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ মুখে ঘাড়ে লাগিয়ে নিন। 
মিনিট কুড়ি রেখে ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মুখে সঙ্গে সঙ্গে একটা তরতাজা অনুভূতি আসবে।  
ওটসের এমনই গুণ, একদিকে তা আর্দ্রভাব ধরে রাখে আবার ত্বক থেকে অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব দূর করে। তাই শুষ্ক বা তৈলাক্ত ত্বক যা-ই হোক, সবার জন্যই কার্যকরী ওটস। তবে কম্বিনেশন বা মিশ্র ত্বক যাদের, তারা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে  কথা বলে তবেই ওটস ব্যবহার করতে পারেন। 

--- অন্বেষা দত্ত

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ