নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকার ওষুধে জিএসটি কমানোয় বেশিরভাগ ওষুধের দাম কমতে চলেছে। এমাসের শেষার্ধ থেকে নতুন দামের সুফল পেতে পারেন সাধারণ মানুষ। আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নয়া দামের সুবিধা মিলতে পারে। ছোট-বড়ো সমস্ত দেশীয় এবং বহুজাতিক ওষুধ নির্মাতা এই বিষয়ে ওষুধ ব্যবসায়ীদের চিঠি পাঠাতে শুরু করেছেন
প্রশ্ন হল, দাম কতটা কমতে পারে? ওষুধ ব্যবসায়ী মহল সূত্রের খবর, অন্তত সাড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশ দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, ওষুধ, যন্ত্রপাতি এবং অনুসারী শিল্পে এতদিন ধরে ৫, ১২ এবং ১৮ শতাংশ জিএসটি বহাল ছিল। অধিকাংশ ওষুধের ক্ষেত্রেই বহাল ছিল ১২ শতাংশ জিএসটি। কেন্দ্রীয় সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, তার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার, অটো ইমিউন ডিজিজসহ জীবনদায়ী ৩৩টি ওষুধের ক্ষেত্রে জিএসটি আর জুড়বেই না। ১২ শতাংশ থেকে একেবারে শূন্য হয়ে যাচ্ছে তা। ফলে দাম এক ঝটকায় অনেকটাই কমতে পারে এইসব ওষুধের। এছাড়া অ্যালোপ্যাথিক এবং আয়ুষ ও অন্যান্য ওষুধের ক্ষেত্রে জিএসটি ৭ শতাংশ কমছে। ছিল ১২ শতাংশ, নয়া নির্দেশে হয়েছে ৫ শতাংশ। ব্যান্ডেজ, সুচ, সুতো, বিভিন্ন রোগ ও রক্তপরীক্ষার কিট প্রভৃতিতে এতদিন ১২ শতাংশ জিএসটি বহাল ছিল। সেগুলির ক্ষেত্রে জিএসটি কমে হচ্ছে ৫ শতাংশ। ফলে লাভ মিলতে পারে এইক্ষেত্রেও। রাজ্যের ওষুধের দোকানদাদের সর্ববৃহৎ সংগঠন বিসিডিএ’র কর্তা শঙ্খ রায়চৌধুরী বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ওষুধের দাম কমতে পারে। বেশিরভাগ ওষুধেই নতুন দামের সুপ্রভাব পড়বে। নয়া প্রিন্ট আসছে।
শঙ্খবাবু একথা বললেও একটি অদ্ভুত সমস্যার মধ্যে পড়তে পারেন ক্রেতারা। ওষুধের স্ট্রিপে নতুন দামসহ প্রিন্ট পড়বে। পাশাপাশি স্টক শেষ না-হওয়া পর্যন্ত পুরানো দামের ওষুধগুলিও বাজারে থাকবে। বিক্রিবাটা চলবে। ফলে একই ওষুধ দুটি আলাদা দামে বিক্রির আশঙ্কা রয়েছে। তাতে ক্রেতামহলে সংশয় বাড়বে। যদিও সংশয়ের কোনও কারণ থাকার কথাই নয় বলে জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া কেমিস্ট অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউটর্স ফেডারেশনের সর্বভারতীয় সম্পাদক জয়দীপ সরকার। তিনি বলেন, আইনে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে আগের ওষুধগুলিও বদলে যাওয়া কম দামে ক্রেতাদের বিক্রি করতে হবে।
তবে পোড়খাওয়া ওষুধ ব্যবসায়ীদের একাংশ জানিয়েছেন, অধিকাংশ ওষুধে জিএসটি ১২ শতাংশ থেকে কমে ৫ শতাংশ হয়ে যাওয়া, মানে ৭ শতাংশ কম দামে ওষুধ বিক্রি হওয়া—ব্যাপার শুধু এমন নয়। ওষুধের কাঁচামাল, ওষুধ তৈরি, প্যাকেজিং, প্রসেসিং—সমস্ত ক্ষেত্রে জিএসটি কমেছে। তাই ক্রেতাদের আগের থেকে ৭ শতাংশেরও অনেকটাই কম দামে ওষুধ পাওয়ার কথা। কিন্তু তাঁরা সেই সুবিধা আদৌ পাবেন কি? জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকটি দিন।