Bartaman Logo
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

বিলম্বে বোধোদয়

এত ঘটা করে যাঁদের নাম বাদ পড়ল, যাঁরা বাংলা ও বিহারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারলেন না তাঁদের আবার ফেরাতে উদ্যোগ শুরু হয়েছে। আবার নতুন করে আবেদন করতে পারবেন বাদ যাওয়া ভোটাররা

বিলম্বে বোধোদয়
  • ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

এত ঘটা করে যাঁদের নাম বাদ পড়ল, যাঁরা বাংলা ও বিহারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারলেন না তাঁদের আবার ফেরাতে উদ্যোগ শুরু হয়েছে। আবার নতুন করে আবেদন করতে পারবেন বাদ যাওয়া ভোটাররা। পশ্চিমবঙ্গ সহ কুড়িটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর সমাপ্ত। সব মিলিয়ে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। এখন চাপে পরে ফের কেঁচে গণ্ডূষ শুরু হচ্ছে। অর্থাৎ আবার আপনাকে যেতে হবে ইআরও কিংবা বিএলও-র কাছে। আবার শুরু হবে লাইন এবং হেনস্তা। ভোটারদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। এই ফর্ম ভরো, ওই ফর্ম বদলাও, হাজারো ঝক্কি। এ কতদিন চলতে পারে?

Advertisement

অন্য দুজন নির্বাচন কমিশনারকে ঠুঁটো সাজিয়ে জ্ঞানেশ কুমার একতরফা কলকাঠি নেড়েছেন, অভিযোগ এমনটাই। তা নিয়েই দেশ উত্তাল। এই দেশজোড়া বিতর্কের পটভূমিতেই গত শনিবার ‘সব ঠিক হ্যায়’ দেখাতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও আর দুই কমিশনার বৈঠকে বসেছিলেন দিল্লির মুখ্য কার্যালয়ে। কোথাও কোনো বিরোধ নেই দেখাতে সেই ছবিও মুহূর্তে প্রচারও করা হয়েছে গোটা দেশে সরকারি তৎপরতায়। ওই বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য একটাই, ভাবমূর্তি ফেরানো এবং ড্যামেজ কন্ট্রোল। এদেশে চাপে না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না। শাসক, প্রশাসক মায় আমলাকুলেরও সেই একই অবস্থা। সেই কারণেই বিবেক যোশী ও সুখবিন্দর সিং সান্ধুর তোলা আপত্তি এতদিন অবহেলিত থাকলেও তড়িঘড়ি তাঁদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন জ্ঞানেশ কুমার। তাহলে এতদিন পাত্তা দেননি কেন? এখন আরশোলার ভয়! একইসঙ্গে তথাকথিত বিরোধী রাজনৈতিকদলগুলির ক্লিশে চেহারার বহিঃপ্রকাশ। স্বভাবতই চাপের মুখে নির্বাচন কমিশন। তার ভূমিকা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। দেশের মানুষের কাঠগড়ায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সম্মাননীয় জ্ঞানেশ কুমার। রাজনৈতিক দলগুলিকে ছাপিয়ে আগামী ২ অক্টোবর মুম্বই থেকে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে নতুন উঠে আসা ককরোচ জনতা পার্টি। সেদিন ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে আইনঅমান্য দিয়ে নতুন আন্দোলনের শুরু। মাত্র গত জুলাই মাসে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে যেতে হয়েছে। তা হয়েছে ককরোচদের আন্দোলনের চাপে। এবার বিতর্কের কেন্দ্রে জ্ঞানেশ কুমার। সারা দেশ ঘটনাক্রমের দিকে তাকিয়ে।
বাংলার কথাতেই আসি। ৯২ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার পরেও  জয় পরাজয়ের ব্যবধান কিন্তু মাত্র ৩২ লক্ষ ভোট। বহু কেন্দ্রে এককভাবে জয়ের মার্জিন বাদ পড়া ভোটের অর্ধেকও নয়। তাহলে? জয় পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দিয়েছে দুর্নীতি নয়, এসআইআর একা? এই প্রশ্নেরই উত্তরের অপেক্ষায় জনগণ। এই দিয়েই কি তবে আগামী ঊনত্রিশ সালের ভোট প্রস্ততির সলতে পাকানো? ২০৪৭ সালে বিকশিত ভারত যে পাখির চোখ। কিন্তু গণতন্ত্রও ঠুনকো নয়। তাঁকে বাঁধার চেষ্টা হলেই সেও ভিন্ন পথে ঠিক বদলা নিয়ে নেয়। শাসক জানতেও পারে না! যদি পুরানো তালিকায় ভোট হতো কী ফল হতো বিহারে? এই বাংলায়? নিঃসন্দেহে তা গবেষণার বিষয়। রাজনীতি, দলীয় আকচাআকচি, মতান্তর, মতভেদ ছাপিয়ে এই একটা প্রশ্ন কিন্তু ক্রমশ আরও গভীর হয়ে সামনে আসছে যত বর্তমান পরিবর্তনের সরকারের বয়স বাড়ছে। এখনও এই সরকারের ৬ মাসও পার হয়নি। আরও সময় গেলে এই সরকারকে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হবে। তখন কেউ বলবে না তো সরকারটাই হয়েছিল এসআইআর-এর সৌজন্যে! অভিযোগ থাকলে তা শোনা, বিরোধী মত ও তাকে সম্মান জানানো গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তাই এসআইআর নিয়ে যাবতীয় বিরোধী সন্দেহ দূর করে দেশের মানুষের বিশ্বাস জয় করা এই মুহূর্তের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। না হলে আর একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় যুক্ত হবে আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে। সেই উদাহরণ মোটেও সুখকর হতে পারে না। তাই বিলম্বে নয়, সময় থাকতে বোধোদয় হোক। সাংবিধানিক সংস্থাগুলি দলদাস হলে, মর্যাদা হারালে ভারত আর পাকিস্তানের পার্থক্যও দ্রুত ঘুচে যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ