রাজীব বর্মন, দেওয়ানহাট: প্রথাগত কৃষির পাশাপাশি আয় বাড়তে ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে সাত দিনের মৌমাছি পালনের বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু হল সোমবার। সাতমাইল সতীশ ক্লাব ও পাঠাগারে ওই আবাসিক প্রশিক্ষণে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার মোট ২৫ জন মৌ-পালনে আগ্রহী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ২৩ মার্চ পর্যন্ত এই শিবির চলবে। এক সপ্তাহ ধরে চলা এই শিবিরে থিওরি এবং প্রাক্টিক্যাল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি একদিন শিক্ষামূলক ভ্রমণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণে আসা উৎসাহীদের বিভিন্ন আধুনিক কৃষির সঙ্গেও পরিচিতি হওয়ার সুযোগ থাকছে। শুধু তাই নয়, আয়োজকদের তরফে প্রশিক্ষণ শেষে শংসাপত্র প্রদান করা হবে।
সোমবার প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কোচবিহার কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রর শস্য বিজ্ঞানী শঙ্কর সাহা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতমাইল সতীশ ক্লাব ও পাঠাগারের সম্পাদক অমল রায় সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। ভারত সরকারের জাতীয় মৌমাছি বোর্ড-এর আর্থিক সহযোগিতায় ও কোচবিহার কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র, সাতমাইল সতীশ ক্লাব ও পাঠাগারের যৌথ উদ্যোগে সাত দিনের মৌমাছি পালনের আবাসিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
মৌ-পালন একটি প্রাচীন ও পরিবেশবান্ধব পেশা। যা মধু, মোম এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক পণ্য উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই লাভজনক নয় বরং পরিবেশ রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মৌমাছি ফুলের পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা ফলন বাড়াতে সাহায্য করে। মৌচাকের মোম থেকে মোমবাতি, প্রসাধনী সহ অন্যান্য পণ্য তৈরি করা যায়। সেজন্য পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আরও কর্মক্ষম করে তুলতে ও আয় বাড়াতে এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কোচবিহারের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র এবং কৃষি নির্ভর বেসরকারি সংস্থা সাতমাইল সতীশ ক্লাব ও পাঠাগার।
কোচবিহার কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রর শস্য বিজ্ঞানী শঙ্কর সাহা বলেন, সাত দিনের এই মৌমাছি পালনের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে কৃষকদের স্বনির্ভর করে তোলা হবে। প্রথাগত কৃষির পাশাপাশি মৌমাছি পালনের মাধ্যমেও আয় বাড়বে।
সাতমাইল সতীশ ক্লাব ও পাঠাগারের সম্পাদক অমল রায় বলেন, মৌমাছি পালনের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে ফার্মার্স প্রোডিউসার কোম্পানির সদস্যদের স্বনির্ভর করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে পরবর্তীতে দক্ষ প্রশিক্ষক হিসেবে সদস্যদের প্রশিক্ষিত করা হবে। আগামী দিনে কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন ব্লকে মধু চাষের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই শিবিরে দুই জেলার মোট ২৫ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। নিজস্ব চিত্র।