


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: মুখে বিজেপি নেতারা যাই বলুন না কেন, দলের নিচুতলায় সংগঠনের হাল কী, ফের তা প্রকাশ্যে এল। বুধবার জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের পাঙ্গা সাহেববাড়ি এলাকায় বিজেপির ভারতীয় জনতা কিষান মোর্চার সভা থেকে ‘অনীহা’ ছেড়ে দলের কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিল রাজ্য নেতৃত্ব। শুধু তাই নয়, বুথ ও শক্তিকেন্দ্রে দলের তরফে যেসব কর্মসূচি দেওয়া হয়ে থাকে, তা সময়ে শেষ করার ব্যাপারে কর্মীদের একাংশের মধ্যে যে গা-ছাড়া মনোভাব রয়ে গিয়েছে, সেটাও স্পষ্ট হয়ে গেল এদিনের সভায় নেতৃত্বের ভাষণে।
বিজেপির ভারতীয় জনতা কিষান মোর্চার রাজ্য সভাপতি রাজীব ভৌমিক বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, গতানুগতিকতা ছাড়তে হবে। মনে রাখতে হবে, সামনে ভোট। ফলে কর্মীদের আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে এখন। বুথ ও শক্তিকেন্দ্রে দল যে কর্মসূচি দিয়েছে, তা সময়ের মধ্যে ভালোভাবে শেষ করতে হবে। অনেকের মধ্যে এনিয়ে অনীহা থাকে। দলীয় কর্মসূচি নিয়ে কোনোভাবেই অনীহা দেখানো যাবে না। মানুষের পাশে বেশি করে দাঁড়াতে হবে। দলের কাজ করতে হবে রুটিন মেনে। বিজেপির কিষান মোর্চার রাজ্য সভাপতির বার্তা, সিপিএম বা তৃণমূল থেকে লোক টানার দরকার নেই। নিজেদের দলের যে শক্তি রয়েছে, সেটা নিয়েই ঝাঁপাতে হবে। তাহলেই উদ্দেশ্য পূরণ হবে।
সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে দলের কর্মীদের উদ্দেশে বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি শ্যামল রায় বলেন, বুথ ও শক্তিকেন্দ্রে যেমন আমাদের কর্মসূচি চলছে, তেমনই ‘গৃহ সম্পর্ক’ অভিযান চলছে। বাড়ি বাড়ি যাওয়ার ব্যাপারে তৎপরতা বাড়াতে হবে। দল বেঁধে নয়, একজন কর্মী একজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলবেন। তাঁকে বোঝাবেন। পার্টির গাইড লাইন মেনে সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাকে বোঝাতে হবে। ‘জাগরণ’ তৈরি করতে হবে সেই বাসিন্দার মধ্যে। একাজে যেন কোনোভাবে খামতি না থাকে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী।
সভা শেষে রাস্তায় আলু ফেলে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি নেতারা। রাজ্য সরকারকে সহায়কমূল্যে আলু কিনতে হবে বলে দাবি জানান তাঁরা। না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা।
• নিজস্ব চিত্র।