Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁদর-হাতির জোড়া তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হ্যামিল্টনগঞ্জবাসী

বাঁদর-হাতির জোড়া তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হ্যামিল্টনগঞ্জবাসী
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ঝাঁকে ঝাঁকে বাঁদরে অতিষ্ঠ হ্যামিল্টনগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী এবং বাসিন্দারা। তবে এবার শুধু বাঁদরে রক্ষা নেই, দোসর হয়েছে হাতির উপদ্রব। সোমবার রাতে বক্সাব্যাঘ্র প্রকল্পের তিনটি হাতি দাপিয়ে বেড়াল হ্যামিল্টগঞ্জের রবীন্দ্রনগর ও পাশের উত্তর লতাবাড়িতে। রবীন্দ্রনগরে দলটি একটি দোকান গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তার আগে উত্তর লতাবাড়িতে চারটি ঘর ও একটি শিশুশিক্ষা কেন্দ্রেও তাণ্ডব চালিয়েছে হাতিগুলি।
Advertisement
গভীর রাতে হাতির দলটি প্রথমে উত্তর লতাবাড়িতে হানা দেয়। দুর্গা মুণ্ডা নামে এক বাসিন্দা স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। হাতির ঘর ভাঙার শব্দ শুনে দুর্গা পরিবার নিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে বাঁচেন। মিড ডে মিলের চাল, ডালের লোভে হাতির দল এলাকার একটি শিশুশিক্ষা কেন্দ্রেও ভাঙচুর চালায়। এরপর হাতির দলটি হ্যামিল্টনগঞ্জ বাজারের রবীন্দ্রনগরে ঢুকে পড়ে। সেখানে ব্যবসায়ী হরিশ সরকারের দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে আটা, চাল, ডাল ও অন্য সামগ্রী সাবার করে। দোকানের দেওয়াল ভেঙে দেয়। খবর পেয়ে বক্সার এলিফ্যান্ট স্কোয়াড ও হ্যামিল্টনগঞ্জ রেঞ্জের কর্মীরা এসে হাতির দলটিকে রাতেই জঙ্গলে ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম হয়। 
এমনিতেই বক্সার ঝাঁকে ঝাঁকে বাঁদরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হ্যামিল্টনগঞ্জের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। তার উপর দোসর হয়েছে এই উপদ্রব। হ্যামিল্টনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতিতে সম্পাদক বিপ্লব ঘোষ বলেন, বাঁদরের অত্যাচারে আমরা নাজেহাল। বাড়িতে খাবার দেখলেই ছোঁ মেরে নিয়ে যাচ্ছে। সেই জন্য ঘরের দরজা জানালা ২৪ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হয়।
বিপ্লববাবু বলেন, রাতে বাজারে হাতি চলে আসছে। অথচ, বাজারে হাতি ঢোকা বন্ধ করতে বনদপ্তরের মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। আমরা শীঘ্রই বাজারে বনকর্মীদের মনিটরিং বাড়ানোর জন্য বনদপ্তরে স্মারকলিপি দেব।
বাসিন্দারা বলেন, আগে হ্যামিল্টনগঞ্জ বাজারে হাতি ঢুকতো না। এখন সেই বাজারেও ইদানিং হাতি ঢুকে পড়ছে। যদিও বক্সার হ্যামিল্টনগঞ্জ রেঞ্জের রেঞ্জার অর্ণব দাস বলেন, এর আগে হ্যামিল্টনগঞ্জ বাজারে হাতি ঢোকার কোনও ট্র্যাক রেকর্ড নেই। ওই হাতি তিনটি মনে হয় এই এলাকায় নতুন। তাই পথ ভুলে হ্যামিল্টনগঞ্জ বাজারে ঢুকে পড়ছে। ওই বাজারে হাতির আনাগোনা রুখতে মনিটরিং বাড়ানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ