Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিডিওর কাছে রিপোর্ট তলব জেলাশাসকের

বিডিওর কাছে রিপোর্ট তলব জেলাশাসকের
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মুরারই ১ ব্লকের আবদুল্লাপুর গ্রামে আবাস যোজনা প্রকল্পে রিভিউ সার্ভেকে কেন্দ্র করে বিডিওর সামনেই ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে শাসকদলের দুই গোষ্ঠী। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। পুলিস দু’পক্ষের চারজনকে আটক করেছে। সেই ঘটনায় বিডিওকে চিঠি দিয়ে দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট চেয়ে পাঠালেন জেলাশাসক বিধান রায়। অন্যদিকে এঘটনার পর আবাস প্রকল্পে রিভিউ সার্ভেতে গ্রামে যেতে ভয় পাচ্ছেন অধিকাংশ বিডিও। অনেকে পুলিসি নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন জানিয়েছেন। 
Advertisement
জীর্ণ কাঁচা বাড়িতে বাস করেও আবাস প্রকল্পের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বহু দুঃস্থ মানুষ। তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ‘অযোগ্যরা’। সার্ভের শেষে গত বুধবার তালিকা প্রকাশ হতেই এমনই অভিযোগে রামপুরহাট মহকুমার ব্লকে ব্লকে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। দাবি ও অভিযোগের ভিত্তিতে বিডিওরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে রিভিউ সার্ভে শুরু করেছেন। মুরারই ১ ব্লকের আবদুল্লাপুর গ্রামে এমনই ২১টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। সোমবার সেই অভিযোগ পত্র হাতে রিভিউ সার্ভেতে গ্রামে এসেছিলেন বিডিও বীরেন্দর অধিকারী। সেই সময় বিডিওর সামনেই তৃণমূলের দুই পক্ষ বাঁশ, লোহার রড ও লাঠি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ঢিল ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। কোনওরকমে গাড়িতে চেপে গ্রাম ছেড়ে কার্যত প্রাণে বাঁচেন বিডিও। 
গ্রাম সূত্রে জানা গিয়েছে, একদিকে সদ্য কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া পঞ্চায়েতের সদস্যা হীরা বিবির ছেলে উজ্জ্বল শেখ। অপর দিকে গ্রামেরই বুথ সভাপতি বসির শেখ। মারধরে ব্যাপক জখম হয়ে রামপুরহাট মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন বসির সহ চারজন। বসিরের মাথায় দশটি সেলাই পড়েছে। অন্যদিকে উজ্জ্বল আহত না হলেও তাঁর পক্ষেরও কয়েকজন জখম হয়েছেন। বসিরের ভাগনে মহসিন শেখ বলেন,  গ্রামের প্রকৃতদের বাদ দিয়ে অযোগ্যরা নাম তালিকায় রয়েছেন। মামার অভিযোগের ভিত্তিতে রিভিউ সার্ভেতে এসেছিলেন বিডিও। বিডিওর অনুরোধেই আমরা বাড়ি বাড়ি দেখিয়ে দিচ্ছিলাম। শেষে একটা বাড়ি যখন ঢুকছি, তখন বিডিওর সামনেই উজ্জ্বল ও তার দলবল অতর্কিতে আমাদের উপর লাঠি, লোহার রড নিয়ে হামলা চালান। 
অন্যদিকে উজ্জ্বল বলেন, ওঁরা বেছে বেছে আমাদের কিছু লোকের নাম তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছিলেন। অথচ বসিরের ভাই সহ তাঁর আত্মীয়দের পাকা দোতলা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বাড়িগুলি দেখাচ্ছিল না। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, পুলিস থাকা সত্ত্বেও ওঁরা ঢিল ছুঁড়ে আমাদের দশজনকে জখম করেছেন। এঘটনায় এখনও পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ না হলেও পুলিস দু’পক্ষের চারজনকে আটক করেছে। 
ঘটনায় যথেষ্ট আতঙ্কিত গ্রামের মানুষ। যেকোন মুহূর্তে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তাঁরা। যদিও গ্রামে পুলিস পিকেট বসানো হয়েছে। ক্ষোভের সুরে গ্রামবাসীরা বলেন, দুঃস্থদের দুর্দশা ঘোচাতে মুখ্যমন্ত্রী পাকা বাড়ি দিচ্ছেন। কিন্তু তাঁর দলের নেতাদেরই তো পেট ভরছে না। আমরা সুবিধা পাব কীভাবে! প্রশাসনের লোকজনও তাঁদের কথা চলছেন। এ ঘটনায় জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, বিডিওকে চিঠি দিয়ে এদিনের মধ্যেই ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর গ্রামে রিভিউ সার্ভেতে যেতে বিডিওদের একাংশ ভয় পাচ্ছেন। যেকোনও সময় তাঁদেরও এমন অপ্রীতিকর ঘটনার মুখে পড়তে হতে পারে। এক বিডিওর কথায়, আমরা চাই যোগ্যরা সুবিধা পান। কিন্তু সার্ভেতে যাওয়া হলেও সঠিক বাড়ি অনেকেই দেখাচ্ছেন না। তার জেরে পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে প্রশাসনকে। ফলে রিভিউ সার্ভেতে অনেক বিডিও পুলিস চেয়ে থানায় আবেদন জানিয়েছেন। পুলিস জানিয়েছে, প্রশাসন চাইলে ফোর্স দেওয়া হবে।  
সম্পর্কিত সংবাদ