সংবাদদাতা, ডোমকল: পেরিয়ে গিয়েছে প্রায় এক মাস। অথচ ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার পরেও একাধিক ঠিকাদার কাজ শুরু করেননি। রানিনগরের এমন আট ঠিকাদারকে লিখিতভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেন বিডিও। যদিও ওই অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি ঠিকাদারদের।
সংবাদদাতা, ডোমকল: পেরিয়ে গিয়েছে প্রায় এক মাস। অথচ ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার পরেও একাধিক ঠিকাদার কাজ শুরু করেননি। রানিনগরের এমন আট ঠিকাদারকে লিখিতভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেন বিডিও। যদিও ওই অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি ঠিকাদারদের।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে রানিনগর-২ পঞ্চায়েত সমিতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের টেন্ডার পাশ হয়েছিল। রাস্তা তৈরির কাজ থেকে শুরু করে টয়লেট নির্মাণ, জলের প্রকল্প-সেই তালিকায় সবই ছিল। টেন্ডার পাওয়ার পর ঠিকাদারদের মাসখানেক আগেই ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা কাজ শুরু করেননি। আর তার জেরেই প্রশাসন এবার কড়া পদক্ষেপ নিল। রানিনগর-২ পঞ্চায়েত সমিতিতে টেন্ডার পাওয়া এমন আটজন ঠিকাদারকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর তাঁদের নোটিস পাঠান পঞ্চায়েত সমিতির এগজিকিউটিভ অফিসার তথা রানিনগর-২ ব্লকের বিডিও কৃষ্ণনির্মাল্য ভট্টাচার্য। সেই নোটিসে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, ওয়ার্ক অর্ডার জারি হওয়ার পরও কাজ শুরু করা হয়নি। তাই পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সমস্ত কাজ বন্ধ রাখতে হবে। দিনকয়েক আগেই ঠিকাদারদের ওই নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে খবর সূত্রের। আর প্রশাসনের এই নোটিস হাতে পৌঁছতেই ঠিকাদার মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রকল্প আটকে যাওয়ায় ঠিকাদারদের একাংশ বেশ ক্ষুব্ধ।
রানিনগর-২এর বিডিও বলেন, ফান্ডের কোনও সমস্যা নেই। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের কাজগুলি সময়ের মধ্যে শুরু করার কথা বলা হয়েছিল। ওঁরা এখনও কাজ শুরু করেননি। যেহেতু ওঁরা এখনও কাজ শুরু করেননি, তাই আমি ওঁদের কিছুদিন হোল্ড করতে বলেছি। পরবর্তীতে ওই প্রকল্পগুলি নিয়ে যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা জানিয়ে দেওয়া হবে।
যদিও রানিনগর-২ ব্লক ঠিকাদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, অনেক সময় ওয়ার্ক অর্ডার পেতে দেরি হয়। তার উপর খারাপ আবহাওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সমস্যার কারণে কাজ শুরু করতে কিছুদিন হয়তো দেরি হয়ে থাকে। কিন্তু গড়িমসির কোনও নজির নেই। এমনিতেই ব্লকের অনেক ঠিকাদার এর আগে তাঁদের পাওনা বাবদ বহু টাকা পাননি। বহু ঠিকাদার কাজের জন্য প্রচুর টাকা খরচ করেছিলেন। এভাবে মাঝপথে কাজ বন্ধের নোটিসে তাঁরা আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হবেন। আমরা ঠিকাদাররা আলোচনায় বসব। সমস্যা নিয়ে বিডিও সাহেবকে জানানো হবে।
রানিনগর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কুদ্দুস আলি বলেন, আমিও বিষয়টি শুনলাম। বিডিও সাহেব টেন্ডার কমিটির সঙ্গে মিটিং করে এই সিদ্ধান্ত নেননি। কীভাবে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন, তা বিডিও সাহেবের কাছে জানতে চাইব।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু মণ্ডল বলেন, বিডিও সাহেব নিশ্চয় সবকিছু বুঝেশুনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবিষয়ে আমাদের বেশি কিছু বলার নেই। তবে এইটুকুই চাইব, বিডিও সাহেব সবকিছু খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নিক। পাশাপাশি, পড়ে থাকা ওইসব কাজ যেন দ্রুত শেষ করে এলাকায় উন্নয়ন অব্যাহত রাখা যায়, সেই ব্যবস্থা করা হোক।