নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: হাতির ভয়কে উপেক্ষা করে জঙ্গলমহলের মানুষ ‘বাদনা’ পরবে মেতে উঠলেন। এই পরবে তাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে গো-দেবতার আরাধনা করে থাকেন। জেলাজুড়ে কয়েকশো গ্রামের মানুষ বাদনা পরব উদযাপন করছেন।
Advertisement
যদিও হাতির আতঙ্ক এই পরব উদযাপনে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করেছে। শুধুমাত্র মেদিনীপুর ডিভিশনে ৮৯টি হাতি রয়েছে। ওই সমস্ত হাতি ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন জঙ্গলে আছে। বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা জানান, এই পরিস্থিতিতে সন্ধ্যার পর অনেকেই বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন। এছাড়া, বাদনা পরবের আগে হাতির দল বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল নষ্ট করে দেওয়ায় চাষিদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। ‘বাদনা’ কথাটি মূলত বন্ধন থেকে এসেছে। এই পরবের আসল লক্ষ্য গো-বন্দনা। জঙ্গলমহলের কুর্মি বা মাহাত সম্প্রদায়ের বাদনা পরব আসলে আমন চাষের শেষে গাভীদের বন্দনা করে কৃতজ্ঞতা জানানোর রীতি। কার্তিকী অমাবস্যার রাতে এই উৎসব শুরু হয়। কথিত আছে, কার্তিকী অমাবস্যার রাতে অর্থাৎ কালীপুজোর রাতে গোয়াল দর্শন করেন স্বয়ং মহেশ্বর। অমাবস্যার রাতে গান শুনিয়ে গোরুর সেবা করা হয়। প্রতিপদের দিন গোয়ালপুজো হয়। উৎসব শেষ হয় ভাঁইফোটার দিনে। ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার দিন অর্থাৎ পরবের শেষ দিনে ‘গোরু খোঁটান’ হয়। জঙ্গলমহলের মানুষ কয়েকশো বছর ধরে এই রীতি পালন করে আসছেন। এক গ্রামবাসী বলেন, একসময় গ্রামীণ অর্থনীতি একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছিল। মাওবাদী আন্দোলনের সময় কোনওমতে এই পরব পালন করা হতো। কিন্তু এখন দিন বদলেছে। গ্রামের মানুষ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। এর ফলে গ্রামীণ এলাকায় ধুমধাম করে এই পরব পালন করা হয়। গ্রামের মহিলারা এই পুজোয় অংশ নেন। শালবনী ব্লকের দেবগ্রামের বাসিন্দা স্বপন মাহাত বলেন, বাদনা পরব উপলক্ষ্যে গ্রামে মেলা বসেছে। মেলায় রেকর্ড পরিমাণে ভিড় হবে। প্রতি বছর এই মেলা হয়ে থাকে। তবে এবার বিভিন্ন জঙ্গলে হাতি রয়েছে। তাই অনেকেই খুব আতঙ্কে আছেন।



