নয়াদিল্লি: এই মুহূর্তে বোর্ডের সেন্টার অব এক্সেলেন্সের (সিওই) প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণ। গত কয়েক বছর ধরেই এই দায়িত্ব পালন করে চলছেন তিনি। তবে আরও বড় দায়িত্ব তাঁর ঘাড়ে চাপতে চলেছে। বোর্ডের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট হচ্ছেন হায়দরাবাদি। সেপ্টেম্বরেই সম্ভবত এই পদে বসবেন তিনি। এরফলে ভারতের জুনিয়র দলগুলি থেকে শুরু করে ক্রিকেটারদের রিহ্যাব, সিনিয়র পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেটারদের রোডম্যাপ নির্ধারণ, সবকিছুই থাকবে তাঁর অধীনে। কোচ বেছে নেওয়ার গুরুদায়িত্বও ন্যস্ত হবে লক্ষ্মণের অধিকারের মধ্যে। ফলে টিম ইন্ডিয়ার প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর থেকে শুরু করে সিনিয়র নির্বাচকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অজিত আগরকর, প্রত্যেকেই থাকবেন নিয়ন্ত্রণে। বোর্ড সূত্রের খবর, সেন্টার অব এক্সেলেন্সের প্রধান হিসেবে তাঁর চুক্তি আরও দু’বছর বাড়তে চলেছে। একইসঙ্গে ‘ডিরেক্টর অব ক্রিকেট’ পদও দেওয়া হবে তাঁকে। ভারতীয় ক্রিকেটে এই পদ আগে ছিল না।
জাতীয় দলের নির্বাচকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান হিসেবে আগরকরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা সেপ্টেম্বরে। গত কয়েক মাস ধরে তাঁর ভূমিকা রয়েছে ক্রিকেটমহলের চর্চায়। বিশেষ করে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ওডিআই ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ নিয়ে আগরকরের গড়িমসি ভালো ভাবে নেননি অনেকে। এই প্রেক্ষিতেই লক্ষ্মণের প্রমোশনকে আগরকরের উপর নজরদারি বলেই দেখা হচ্ছে। তবে এখনই সরানো হবে না তাঁকে। পরের বছরের জুন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন তিনি।
গম্ভীরের কোচ হিসেবে ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা অব্যাহত। সাদা বলের ক্রিকেটে সাফল্য পেলেও লাল বলের ঘরানায় কলঙ্কিত তাঁর অধ্যায়। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট তালিকায় এখন পাঁচে রয়েছে ভারত। দেশের মাঠে পরপর টেস্ট সিরিজও হেরেছে ভারত। এই পরিস্থিতিতে গম্ভীরকে সরানোর দাবি উঠছে। তবে যা আভাস, তাতে পরের বছর একদিনেৱ বিশ্বকাপের আগে সরানো হবে না তাঁকে। তবে উলটো-পালটা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না গম্ভীর। কারণ, সেক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করবেন লক্ষ্মণ।
পরিষ্কার, আগামী দিনে ক্রিকেটীয় যাবতীয় সিদ্ধান্তই হবে তাঁর মাধ্যমে। গত কয়েক বছরে সিওই’র দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতীয় দলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন লক্ষ্মণ। ফলে সমস্ত ক্রিকেটারের সঙ্গেই স্পষ্ট ধারণা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি, সর্বোচ্চ পর্যায়ে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে খেলেছেন ৫১ বছর বয়সি। যা ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে তাঁর।