Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বক্সায় প্রথমবার ক্যামেরাবন্দি হিমালয়ান গ্রে লেঙ্গুর

একটু দূর থেকে দেখলে সাদা চুল-দাড়ি-গোঁফের একজন সাধু বলে মনে হতে পারে

বক্সায় প্রথমবার ক্যামেরাবন্দি হিমালয়ান গ্রে লেঙ্গুর
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: একটু দূর থেকে দেখলে সাদা চুল-দাড়ি-গোঁফের একজন সাধু বলে মনে হতে পারে। সেরকম শান্ত। উবু হয়ে বসে থাকে মাটিতে। নয়ত গাছের ডালে দোল খায়। নাম, ‘হিমালয়ান গ্রে লেঙ্গুর’। বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। এই মূহূর্তে পৃথিবীতে আছে মাত্র দেড় হাজার।

Advertisement

কিছুদিন আগে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ক্যামেরা নিয়ে ঘুরছিলেন টুবাই মান্না নামে ডানকুনির এক পর্যটক। ২০০ মিটার দূরে একটি গাছে মৌনী তাপসের মতো বসে থাকতে থাকেন সাদা-দাড়ির একটি লেঙ্গুরকে। টুবাই এর আগে অনেক লেঙ্গুরের ছবি তুলেছেন। এরকম চেহারা কখনও দেখেননি। পটাপট অনেকগুলি ফটো তুলে ফেলেন। গাছের ডালে বসে চোখ পিটপিট করে দেখছিল প্রাণীটি। দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে তেড়ে আসেনি। টুবাইবাবুর ছবি ফেসবুকের দৌলতে হিট হয়ে যায়। তারপর সকলে জানাতে থাকেন, ‘অসাধারণ একটি কাজ করে ফেলেছেন, হিমালয়ান গ্রে লেঙ্গুরের ছবি তুলে ফেলেছেন।’ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে হিমাচল প্রদেশের প্রত্যন্ত জেলা চাম্বারের সুন্দলায় শেষ দেখা গিয়েছিল প্রাণীটিকে। তারপর দেখা গিয়েছে কি না তা নিয়ে কোনও খবর চোখে পড়েনি। এর প্রায় দশ বছর পর এই প্রজাতি দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গে।
প্রাণীটি তৃণভোজী। নিরীহ। কচ্চিৎ পোকামাকড় ধরে খায়। বক্সার জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, ইন্ডিয়ান ঢোল, ব্ল্যাক প্যান্থার, ক্লাউডেড লেপার্ডের মতো প্রাণীর অস্তিত্ব মিলেছে। এবার মিলল হিমালয়ান গ্রে লেঙ্গুর। জঙ্গলের মুকুটে জীববৈচিত্রের নতুন পালক যোগ হওয়ায় উচ্ছ্বসিত প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। পর্যটক টুবাই মান্না বললেন, ‘আমি নিয়মিত জঙ্গলে ঘুরি। একদিন সকাল আটটা নাগাদ জঙ্গলের একটি গাছের একদম মগডালে লেঙ্গুরটিকে দেখি। অনেকগুলি ছবি তুলেছি।’ বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা অপূর্ব সেন বলেন, ‘এর আগেও এ জঙ্গলে হিমালয়ান গ্রে লেঙ্গুর দেখা গিয়েছিল। তখন অবশ্য ছবি তোলা হয়নি। এবার ছবি প্রকাশ্যে আনা হল। এই ঘটনায় আমরা আনন্দিত।’ 
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের তালিকায় হিমালয়ান গ্রে লেঙ্গুর বিপন্ন প্রাণী। হিমাচল প্রদেশের চাম্বা ভ্যালি এবং জম্মু ও কাশ্মীর ছাড়া আর কোথাও বাসস্থান নেই। আর আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভূটান ও নেপালে আছে। প্রাণীটির বাহু এবং উরুর রং গাঢ় ধূসর। পাতা ছাড়া ফল, ফুলের পাপড়ি, কুঁড়ি, কাণ্ড, বাকল, শিকড় খায়। সমুদ্রস্পৃষ্ট থেকে  ২২০০-৪০০০ উচ্চতায় উপ ক্রান্তীয়, গ্রীষ্মমণ্ডলীয়, আর্দ্র, নাতিশীতোষ্ণ পাতাযুক্ত বনে বাস করে তপস্বীর মতো দেখতে হিমালয়ান গ্রে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ