সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মালগাড়ি ও এক্সপ্রেস ট্রেনকে পাশ করাতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে লোকাল ও প্যাসেঞ্জার ট্রেনকে। বর্ধমান সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনের বাতাসপুর স্টেশনে সিংহভাগ লোকাল ও প্যাসেঞ্জার ট্রেনকে যেভাবে নিত্যদিন হোঁচট খেতে হচ্ছে, তাতে যারপরনাই বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ রেলযাত্রীরা।
বর্ধমান সাহেবগঞ্জ শাখার বীরভূমের উপর দিয়ে যাওয়া বেশিরভাগ এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ রয়েছে বোলপুর, সাঁইথিয়া এবং রামপুরহাট স্টেশনে। এর মাঝে রয়েছে নানা স্টেশন। নিত্য রেলযাত্রীদের কথায়, হাওড়া ও বর্ধমান স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা বিভিন্ন প্যাসেঞ্জার ও লোকাল ট্রেন বোলপুর পর্যন্ত ভালোই আসছে। তারপর থেকেই মার খাচ্ছে। অভিযোগ, বাতাসপুর স্টেশনে সেই সব ট্রেনকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। রবিবার রাত আটটা বেজে ২৫ মিনিটে ডাউন বিশ্বভারতী ফাস্ট প্যাসেঞ্জার ট্রেন বাতাসপুর স্টেশনে প্রবেশ করে। প্রায় ৩৫ মিনিট পর অর্থাৎ ন’টা নাগাদ ট্রেনটি রামপুরহাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। তার দু’দিন আগে একইভাবে আধঘণ্টার উপর বাতাসপুর স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকে শিয়ালদহ গোড্ডা প্যাসেঞ্জার ট্রেন। পেশায় স্কুল শিক্ষক সানাউল হোসেন বলেন, বাতাসপুর স্টেশনে লোকাল ও প্যাসেঞ্জার ট্রেনের স্টপেজ রয়েছে এক মিনিটের। অথচ নিত্যদিন সেখানে ওই সব ট্রেনকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। এমনিতেই অনুন্নত ওই স্টেশন। পানীয় জলের ব্যবস্থা ভালো নয়, মহিলাদের সেভাবে নিরাপত্তা নেই। বোলপুর, সাঁইথিয়া ও রামপুরহাটের মাঝেও বহু স্টেশন রয়েছে। সেই স্টেশন এলাকার যাত্রীরা তো লোকাল ও প্যাসেঞ্জার ট্রেনের উপরই নির্ভরশীল। এমনিতেই করোনার সময় বন্ধ একাধিক লোকাল ট্রেন এখনও চালু করা হয়নি। তার উপরে যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ যাত্রীরা যাবেন কোথায়?
নিত্যযাত্রীরা বলেন, বাতাসপুর স্টেশনে এখনও তৃতীয় লাইন হয়নি। পরের স্টেশন সাঁইথিয়া। সেখান থেকে মুরারই পর্যন্ত থার্ড লাইন রয়েছে। অথচ এক স্টেশন আগেই লোকাল ও প্যাসেঞ্জার ট্রেনগুলিকে দাঁড় করিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়ে তুলছে রেল। কলকাতা, হাওড়া ও শিয়ালদহের দিকে এক্সপ্রেস ট্রেনকে দাঁড় করিয়ে লোকাল ট্রেনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। আর বর্ধমান-সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনে ঠিক বিপরীত চিত্র রেলের। পাশ দিয়ে পেরিয়ে যাচ্ছে একের পর এক এক্সপ্রেস ট্রেন ও মালগাড়ি। এভাবে লোকাল ট্রেনকে দাঁড় করিয়ে রাখা নিয়ে রাগে গজগজ করছেন যাত্রীরা। এক নিত্যযাত্রী তো রেগে বলেই ফেললেন, প্রতিদিন এভাবে ট্রেনকে লেট করার ফল একদিন রেলকে ভুগতে হবে। মনে রাখা রাখা দরকার মানুষের ক্ষোভ কিন্তু বাড়ছে।
মুরারই নিত্যযাত্রী সঙ্ঘের পক্ষে জগন্নাথ সেবাদত্ত বলেন, রেল পরিকাঠামো উন্নয়ন না করেই প্রচুর পরিমাণে এই লাইনে মালগাড়ির সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেনকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে প্যাসেঞ্জার ও লোকাল ট্রেনের যাত্রীদের স্বার্থ দেখা হচ্ছে না। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়। যেখানে ডবল লাইন রয়েছে সেখানে তৃতীয় এবং যেখানে তৃতীয় আছে সেখানে চতুর্থ লাইন স্থাপন করতে হবে রেলকে। সাঁইথিয়া থেকে খানা ও রামপুরহাট থেকে মুরারই পর্যন্ত চতুর্থ লাইন হলে এই সমস্যার সামাধান হবে বলে মনে করি।
যদিও পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত বলেন, নিশ্চয় কোনও সমস্যার কারণে এমনটা হচ্ছে। আশাকরি দ্রুত সমস্যা মিটে যাবে। কিন্তু কবে রেহাই মিলবে, সেই প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।