


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কারো প্রয়োজন সাংসদের শংসাপত্রের। আবার কারো প্রয়োজন চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে সাংসদের সহযোগিতা। কিন্তু সাংসদ না-থাকায়, বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের বাসিন্দারা এসব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই অবস্থায় এলাকার মানুষজন চাইছেন, আইনি জটিলতা অতিক্রম করে শীঘ্রই হোক এই কেন্দ্রের উপনির্বাচন।
বিধানসভা নির্বাচন মিটে যাওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, এই উপনির্বাচন কবে হবে? বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচনের ফলাফল সংক্রান্ত বিষয়ে একটি মামলা রয়েছে হাইকোর্টে। তার নিষ্পত্তি সাপেক্ষে বসিহাটে কবে ওই ভোট হবে, তা নিয়েই সাধারণ মানুষের কৌতূহল তুঙ্গে।
২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচন হয়। বসিরহাট থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন হাজি নুরুল ইসলাম। বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রকে ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫৪৭ ভোটে হারিয়ে সাংসদ হন তিনি। যদিও এই নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে বিজেপি। মামলাটি এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন।
পরে, ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। তারপর থেকে বসিরহাট সাংসদ-শূন্য। এজন্য নানাধরনের অসুবিধা হচ্ছে এলাকার মানুষের। স্বপন মণ্ডল নামে এক বাসিন্দা জানান, স্থানীয় সাংসদ না-থাকায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে এমপির সার্টিফিকেট জোগাড় করতে ছুটতে হচ্ছে বারাসত কিংবা বারাকপুরের এমপির কাছে। গোলাম ফরিদ নামে অপর বাসিন্দা বলেন, এলাকায় একজন সাংসদ থাকুন, সেটা সবাই চায়। তাতে নানাদিক থেকে সুযোগ-সুবিধা ও পরিষেবা পাওয়া যায়। তাই এলাকার মানুষ হিসেবে আমরা আশা করছি, বসিরহাট লোকসভা আসনে দ্রুতই উপনির্বাচন হবে।
এই বিষয়ে বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক সুরজিৎ মিত্র বলেন, সাংসদ না-থাকায় এলাকার মানুষকে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তার উপর সাংসদের ৫ কোটি টাকার তহবিলে এলাকার যে উন্নয়ন হত, সেটাও থমকে রয়েছে। এলাকার মানুষ চাইছেন দ্রুত নির্বাচন হোক। মামলাকারী বিজেপিরই সরকার এখন রাজ্যে। তাই এই নির্বাচনের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ করার দায়িত্ব এখন তাদের উপরেই বর্তায়।
পাশাপাশি হিঙ্গলগঞ্জের বর্তমান বিধায়ক তথা বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের আগের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র বলেন, এই কেন্দ্রের উপনির্বাচন নিয়ে দলের উচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলব। আলোচনা করব, কী করা যায়। তবে এখন আমরা এলাকার মানুষের পাশে আছি। উন্নয়নই আমাদের অগ্রাধিকার। প্রসঙ্গত, বসিরহাট লোকসভা আসনের মধ্যে বিধানসভা কেন্দ্র সাতটি। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তার মধ্যে পাঁচটিতে জিতেছে তৃণমূল। বাকি দুটি পেয়েছে বিজেপি।