সংবাদদাতা, ঘাটাল: ‘বর্তমান’ পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরেই খোঁজ মিলল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন মাস ধরে নিখোঁজ গবেষক ছাত্রের। ঘাটাল থানার রাধাকান্তপুরের বাসিন্দা শুকদেব বেরাকে গত কয়েক মাস ধরেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত শুকদেব তাঁর বাবা ও পরিজনদের হাত ধরে বাড়ি ফিরে এলেন। তাঁকে হাওড়ার লিলুয়া রেল স্টেশন থেকে পাওয়া গিয়েছে। আরপিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ছবি ও বিবরণের সঙ্গে তাঁরা লিলুয়া রেল স্টেশনে ঘোরাফেরা করা এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মিল খুঁজে পান। তখনই তাঁরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকেই পরিবারের কাছে খবর পৌঁছয়। এ বিষয়ে যাদবপুর থানার এক আধিকারিক জানান, আগেই নিখোঁজ সংক্রান্ত ডায়েরি করা হয়েছিল। সংবাদপত্রের সূত্র ধরে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সমন্বয় করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
শুকদেব কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছিলেন। শুকদেবের বাবা শক্তিপদ বেরা বলেন, বেশ কয়েক মাস ধরেই ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। কখনও ফোন বন্ধ, কখনও ফোন বাজলেও ধরত না। দুশ্চিন্তায় তাঁর বাবা-মা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেসে খোঁজ নিতে গিয়ে জাধনতে পারেন, ছেলে সেখান থেকে নিখোঁজ। অনেক খুঁজেও তাঁরা ছেলের কোনও হদিশ পাননি।
আরপিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক দিন ধরেই এক যুবককে লিলুয়া রেল স্টেশনে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছিল। তাঁর আচরণে মানসিক অস্থিরতার ছাপ ছিল। যেহেতু রেল স্টেশনে ওই ধরনের মানুষকে প্রায়শই ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়, তাই বিষয়তে পুলিশ ততটা গুরুত্ব দেয়নি। ১২ জানুয়ারি ‘বর্তমান’-এ প্রকাশিত নিখোঁজ গবেষকের খবর ও ছবি আরপিএফের জওয়ানদের নজরে আসে। ছবি দেখে মিল পেয়ে তাঁরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শুকদেবের বাড়িতে ফোন করেন।
খবর পেয়ে শনিবার শুকদেবের বাবা শক্তিপদ বেরা ও সম্পর্কিত দাদা ভৃগুরাম বেরা গাড়ি নিয়ে লিলুয়া আরপিএফের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শনিবার রাতেই তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। দীর্ঘ কয়েক মাসের উৎকণ্ঠার পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে পরিবার আবেগে ভেঙে পড়ে।
গত কয়েক মাসে শুকদেবের চেহারা অনেক খারাপ হয়ে গিয়েছে। পরণে জরাজীর্ণ, মলিন পোশাক। দীর্ঘদিন স্নান হয়নি। বাবা বলেন, নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া হয়নি বলে শরীরটাও অনেকটা ভেঙে গিয়েছে। তবে বাড়ি ফিরলেও শুকদেব কারও সঙ্গে একটি কথাও বলছেন না। সব সময় উদাস দৃষ্টি। মুখে ঢাকা দিয়ে বসে থাকছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুকদেব অত্যন্ত মেধাবী। ‘গেট’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গবেষণায় যুক্ত হয়েছিলেন। বিভাগীয় সূত্রে অনুমান, মানসিক টানাপোড়েনের কারণেই তাঁর জীবনযাপনে বড় পরিবর্তন এসেছিল।
রাধাকান্তপুর গ্রামে এখন স্বস্তির হাওয়া। যে মা দুয়ারে বসে পথ চেয়ে থাকতেন, সেই শ্যামলীদেবীর চোখে আজ আনন্দাশ্রু। সংবাদপত্রের একটি খবর যে কত বড় ভূমিকা নিতে পারে, শুকদেবের ফিরে আসাই তার জীবন্ত প্রমাণ।