সংবাদদাতা, বারুইপুর: রাজ্যে পালাবদলের পরেই পরিবর্তন হয়েছে পুজো কমিটিগুলিতে। বারুইপুরেও হাতবদল হয়েছে বেশ কয়েকটি নামী পুজোর। এর মধ্যেও বারুইপুর পুরসভার এক পদাধিকারী ও কাউন্সিলার পুজোর দায়িত্ব নিজেদের হাতেই রেখেছেন। তবে পুজো কমিটিগুলি একে অপরকে থিমে টক্কর দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। চলছে মণ্ডপ নির্মাণ। যদিও থিম নিয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ পুজো কর্তারা।
বারুইপুরের নামী পুজো হিসাবে পরিচিত পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রগতি সংঘের পুজো। এই পুজোর বরাবর দায়িত্বে ছিলেন কাউন্সিলার তাপস ভদ্র। এবার তিনি দায়িত্বে নেই। কমিটির এক কর্তার কথায়, পুজো এবার ৩৪ বছরে পড়েছে। ক্লাবের সদস্যরা ও এলাকার লোকজন পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন। বিজেপির লোকজন থাকছেন? প্রশ্ন শুনে, তাঁর উত্তর— বিজেপি তৃণমূল বলে কিছু নয়। ক্লাবের লোকজন আছেন পরিচালনায়। থিমেও প্রতি বছরের মতো এবারেও থাকবে চমক। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রগতি সংঘ ক্লাবের পক্ষ থেকে অর্থ সাহায্যের জন্য পোস্টও করা হয়েছে। বারুইপুরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে শাসন বালক সংঘের পুজোর সভাপতির দায়িত্বে থাকতেন কাউন্সিলার সুভাষ রায়চৌধুরী। এবার তিনি নেই। বিজেপির কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আছেন পুজোর দায়িত্বে। পুজো কমিটির কর্তা সঞ্জীব মণ্ডল বলেন, ৭০ বছরে পড়েছে পুজো। কমিটি পুরানো নতুন মিশ্রণে করা হয়েছে। থিমে আকর্ষণ থাকবে ফি বছরের মতই। বারুইপুরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সাহাপাড়া ৭/৮ পল্লি দুর্গোৎসব কমিটির পুজোর কর্তা ছিলেন বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সরদার। এখানেও হাতবদল ঘটেছে। তাঁকে এবার দায়িত্বে রাখা হয়নি। বিজেপি কর্মীরাই আছেন দায়িত্বে। পুজো কমিটির কর্তা উত্তম মহাপাত্র বলেন, ৬৬ বছরে পড়েছে আমাদের পুজো। ফি বছরের মত এবার আকর্ষণ থাকবে থিমে। আবার বারুইপুরের আরও একটি নামী পুজো ফুলতলা দুর্গোৎসব কমিটির পুজো। পুজো কমিটির দায়িত্বে আগে ছিলেন বারুইপুর পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের সহসভাপতি শ্যামসুন্দর চক্রবর্তী ও রামনগর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান সোমনাথ চক্রবর্তী। এঁরা কেউ এবার দায়িত্বে নেই। নতুন করে পুজো কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটির এক কর্তা বলেন, পুজো এবার ৭৬ বছরে পড়েছে। থিমে যেমন চমক থাকবে। প্রতিমাতেও থাকবে বিশেষত্ব।
এই পুজো কমিটিগুলির মধ্যে ব্যতিক্রম বারুইপুর পদ্মপুকুর ইউথ ক্লাবের পুজো। এই পুজোর দায়িত্ব এখনও রয়েছে ক্লাবের সদস্য ও পুরসভার এক শীর্ষ পদাধিকারীর হাতে। এলাকার মানুষজনও এমনই চেয়েছেন বলে খবর। পুজো কমিটির এক কর্তা বলেন, ১৬০ বছরে পড়েছে পুজো। ফি বছরের মত এবারেও আকর্ষণ থাকছে। এর পাশাপাশি বারুইপুরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সপ্তপল্লি সর্বজনীন পুজোর দায়িত্বে এবারও আছেন স্থানীয় কাউন্সিলার আশিস দেব রায়। তিনি বলেন, এলাকার মানুষ ও ক্লাবের ছেলেদের নিয়ে পুজো অনুষ্ঠিত হবে। চমক তো আছেই।