Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাত দশক পর ঢালাই রাস্তা পেয়ে আনন্দিত বারঘুটু গ্রাম

গ্রামে ঢোকার কোনও পাকা রাস্তা ছিল না। সরু আলপথ দিয়েই গ্রামবাসীদের যাতায়াত করতে হতো

সাত দশক পর ঢালাই রাস্তা পেয়ে আনন্দিত বারঘুটু গ্রাম
  • ২১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানবাজার: গ্রামে ঢোকার কোনও পাকা রাস্তা ছিল না। সরু আলপথ দিয়েই গ্রামবাসীদের যাতায়াত করতে হতো। তার জেরে তাঁরা চরম সমস্যায় পড়তেন। বর্ষায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অবশেষে স্বাধীনতার পর ঢালাই পাকা রাস্তা পেল মানবাজারের বারঘুটু গ্রাম। দীর্ঘ সাত দশকের সমস্যার সুরাহা হওয়ায় গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজ হওয়ায় দুর্ভোগ মিটেছে গ্রামবাসীদের। বর্ষার আগেই পাকা রাস্তা তৈরি হওয়ায় খুশির হাওয়া আদিবাসী অধ্যুষিত এই গ্রামে।পুরুলিয়ার মানবাজার-১ ব্লকের বারমেশ্যা-রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বারঘুটু গ্রাম। ৫০টিরও বেশি আদিবাসী পরিবারের বসবাস গ্রামে। অথচ ওই প্রত্যন্ত গ্রামে ছিল না কোনও পাকা রাস্তা। সরু আলপথ দিয়ে যাতায়াত করতে হতো গ্রামবাসীদের। গ্রামে ঢুকত না অ্যাম্বুলেন্স সহ কোনও গাড়ি। এক কিলোমিটার আলপথ পেরিয়ে পাকা রাস্তায় উঠতে হতো। এতে গ্রামবাসীদের ভোগান্তির শেষ ছিল না। বর্ষাকালে কাদামাখা রাস্তায় দুর্ভোগ আরও বাড়ত। গ্রামবাসীরা জানান, আগে রাস্তার সমস্যার জন্য কোনও অসুস্থ রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যেত না। এখন আর সেই সমস্যা নেই। অবশেষে গ্রামে তৈরি হয়েছে পাকা রাস্তা। বদলেছে গ্রামের জীবনযাত্রা। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষর্ষের উদ্যোগে ধুলিয়াপাড়া থেকে বারঘুটু গ্রাম পর্যন্ত ঢালাই রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। রাস্তাটির চওড়া করে তৈরি হওয়ায় গ্রামে ঢুকছে সব রকমের যানবাহন। এখন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছে আশেপাশের দু’-একটি গ্রামের বাসিন্দারাও। গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স ঢোকায় রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। বারঘুটু গ্রামের বাসিন্দা দেবজিৎ মাণ্ডি বলেন, আগে সরু আলপথের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে হতো। ধুলিয়াপাড়া গ্রাম পর্যন্ত গেলে তবেই মিলত পাকা রাস্তা। এতে খুবই সমস্যা হতো। এখন ওই সরু আলপথ এখন চওড়া ঢালাই রাস্তায় পরিণত হয়েছে। যার ফলে গ্রামের জীবনযাত্রাও বদলেছে। আরএক গ্রামবাসী দেবদাস সোরেন বলেন, ঢালাই রাস্তা হওয়ায় গ্রামবাসীদের অনেক সুবিধা হয়েছে। এখন আমাদের পাশাপাশি লোটো গ্রামের বিক্রমডি টোলার ঢোকার রাস্তাও ঢালাই করা হয়েছে। সেখানেও দীর্ঘ সাত দশক ধরে পাকা রাস্তা ছিল না। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের মন্ত্রী সন্ধারানি টুডু বলেন, গ্রামবাসীদের দাবি মেনে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তর থেকে ওই গ্রামের রাস্তা ঢালাই করা হয়েছে। ওই এলাকার আরও বেশ কয়েকটি গ্রামের রাস্তাও পাকা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী দিনের যে সমস্ত গ্রামের রাস্তার কাজ বাকি আছে সেগুলি একে একে করা হবে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ