Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু বান্ধবী দেখেই স্বামীকে সন্দেহ, সালিশিতে খুন করে শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন জোনাকি

সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু বান্ধবী দেখেই স্বামীকে সন্দেহ, সালিশিতে খুন করে শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন জোনাকি
  • ২৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পিছন থেকে নয়, প্রকাশ্যে স্বামীর পেটে ছুরি মারার সিদ্ধান্ত জোনাকি দু’মাস আগেই নিয়েছিল। সেই মতো সে লাভপুরের একটি দোকান থেকে ধারালো ছুরি কিনেছিল। সব্জি কাটার জন্য সে ছুরিটি কিনছে বলে দোকানদারকে জানিয়েছিল। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বামীকে রক্তাক্ত করার পরেও তার কোনও হেলদেল নেই। স্বামী বেঁচে যাওয়ায় তার আফশোস রয়েছে। 

Advertisement

পুলিসি জেরায় সে জানিয়েছে, দু’বছর ধরে প্রেম করার পর অনেক স্বপ্ন নিয়ে বর্ধমানের তালিতের দিঘিরপাড়ের বাসিন্দা রকি শেখকে সে বিয়ে করেছিল। কিন্তু, বিয়ের দু’মাস পর থেকেই অশান্তি শুরু হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় রকির অনেক ‘বান্ধবী’ ছিল। রকি তাঁদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতেন। প্রতিবাদ করলেও শুনতেন না। তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে অশান্তি হয়। পরে সম্পর্ক ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়। তারপরই জোনাকি এই সিদ্ধান্ত নেয়। সে জেরায় আরও জানিয়েছে, অন্য কোনও মেয়ের সঙ্গে রকি ঘর বাঁধুক, এটা সে চায়নি। সে নিজে সংসার করতে পারেনি। অন্য কেউ তাঁর সঙ্গে যাতে সংসার পাততে না পারে তার জন্যই সে হামলা চালায়। স্বামীকে জনসমক্ষে ‘শিক্ষা’ দিতে চেয়েছিল। 
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কিছু দিন ধরে অশন্তি চলায় দুই বাড়ির লোকজনের উপস্থিতেতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ঠিক হয়। সেই মতো তালিতের দিঘিরপাড়ে দু’পক্ষের লোকজন হাজির হয়েছিল। এলাকার কয়েকজন মাতব্বর সেখানে ছিল। ‘ডিভোর্স’ নেওয়ার জন্য মেয়ের বাড়ির পক্ষ থেকে প্রথমে ১২ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। পরে সাত লক্ষ টাকায় রফা হয়। সালিশি শেষ হওয়ার মুখে জোনাকি ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে স্বামীর উপর হামলা করে। তাঁর পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা জোনাকিকে মারধর করে পুলিসের হাতে তুলে দেয়। দেওয়ানদিঘি থানার পুলিস তাকে ছুরি সহ গ্রেপ্তার করেছে।
ছ’মাস আগে জোনাকি ও রকির বিয়ে হয়েছিল। জোনাকির বাড়ি বীরভূমের লাভপুরে। নবাবহাটে একটি নার্সিংহোমে এক আত্মীয়ের চিকিৎসা করাতে এসে রকির সঙ্গে তার আলাপ হয়। দু’বছর ধরে প্রেম চলার পর তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু পরিণাম এতটা ভয়ঙ্কর হবে, তা কেউই বুঝতে পারেনি। রকি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আর জোনাকি স্বামীকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে শ্রীঘরে বন্দি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ