Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অবহেলায় জীর্ণ বারাসতের কাছারি মাঠ, সংস্কারের উদ্যোগ বিধায়কের

বারাসতের কাছারি মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়। নতুন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

অবহেলায় জীর্ণ বারাসতের কাছারি  মাঠ, সংস্কারের উদ্যোগ বিধায়কের
  • ১৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: একসময় ঘোড়ার খুরের শব্দে মুখর থাকত বারাসতের কাছারি মাঠ। ঐতিহ্যবাহী সেই মাঠ তার গরিমা হারিয়েছে। বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের অভাবে জেলার অন্যতম বড়ো মাঠটি খেলাধুলোর অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। এবার বারাসতের বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়ের উদ্যোগে কাছারি ময়দানকে ‘মডেল’ মাঠ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তৈরি হয়েছে সংস্কারের ব্লুপ্রিন্ট। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা পড়েছে সরকারের কাছে। শুধুমাত্র মাঠ সংস্কার নয় গোটা এলাকাকেই নতুন পরিচয়ে সাজিয়ে তোলার ভাবনা রয়েছে।

Advertisement

মাঠের নকশা অনুযায়ী, এর কেন্দ্রে থাকবে ফুটবল গ্রাউন্ড। চারপাশ ঘিরে তৈরি হবে হাঁটাচলার পথ। থাকবে সবুজ বেষ্টনী। হবে সৌন্দর্যায়ন। মানুষের জন্য তৈরি হবে পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় উন্মুক্ত পরিসর। শুধুমাত্র ফুটবল মাঠ নয়, জেলার ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে কাছারি ময়দানকে নতুন করে গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে বিধায়কের। বারাসতের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মাঠ সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। কারণ দ্রুত নগরায়নের ফলে একের পর এক খোলা জায়গা হারিয়ে গিয়েছে। কংক্রিটের জঙ্গলের মাঝে খেলার জন্য বড়ো মাঠ বলতে রয়েছে শুধু কাছারি ময়দান। প্রতিদিন প্রাতর্ভ্রমণকারীদের ভিড় দেখা যায়। বিকেলে ফুটবল, দৌড়াদৌড়ি এবং অন্যান্য খেলাধুলা করে থাকে শিশু-কিশোররা। কিন্তু মাঠের বর্তমান অবস্থা খেলোয়াড়দের জন্য বাধা তৈরি করেছে। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ওয়ারেন হেস্টিংস এই মাঠকে ঘোড়দৌড়ের জন্য ব্যবহার করতেন। মাঠের পাশেই ছিল তাঁর বাসভবন। সেই সূত্রে ভারতের প্রথম দিকের ঘোড়দৌড়ের মাঠ হিসেবে কাছারি ময়দানের নাম আসে। ইতিহাসে উল্লেখ, মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় যাওয়ার পথে নবাব সিরাজউদৌল্লার বিশাল সৈন্যবাহিনী, হাতি ও ঘোড়ার বহর এই মাঠেই বিশ্রাম নিত। ফলে কেবল ক্রীড়াক্ষেত্র নয় বাংলার ইতিহাসের সঙ্গেও জড়িয়ে এই ময়দান।
স্বাধীনতার পর থেকেই অবহেলার শিকার এই মাঠ। একসময় এই মাঠ থেকে উঠে এসেছিলেন ভারতের হয়ে খেলা ফুটবলার মুর্শেদ আলি। আশির দশকে জেলার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল ‘চার্মস ফুটবল লিগ’। সেই প্রতিযোগিতাও হত কাছারি ময়দানে। কিন্তু পরিকাঠামোর অভাবে গরিমা হারিয়েছে এখন। বর্তমানে রাজনৈতিক সভা, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য কাজে মাঠের ব্যবহার বেশি হলেও খেলাধুলোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, কাছারি ময়দানের উন্নয়ন হলে জেলার ক্রীড়া পরিকাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ হবে। এ নিয়ে বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় বলেন, কাছারি মাঠ জেলার ঐতিহ্য। দীর্ঘদিন ধরে মাঠটির কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিধায়ক হয়েই আমি এটির উন্নয়নে নজর দিয়েছি। ইতিমধ্যেই নকশা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দিয়েছি। আশা করি কাজ শুরু হবে। অপেক্ষা শুধু ছাড়পত্রের। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ