সংবাদদাতা, মানবাজার: স্কুলের মিড ডে মিল থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা— সমস্ত সরকারি প্রকল্পে এখন আধার বাধ্যতামূলক। সেই আধার কার্ড সংশোধন বা বায়োমেট্রিক আপডেট করতে বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল পোস্ট অফিসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ তুলেছেন বরাবাজারের রাজাপাড়ার বাসিন্দা স্বপন সিংহ। পোস্ট মাস্টার জেনারেল সহ জেলার হেড পোস্ট অফিসে চিঠি মারফত অভিযোগ জানিয়েছেন বলে তাঁর দাবি। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বরাভূম উপর ডাকঘর থেকে আধারের জন্য বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ মানতে নারাজ পোস্ট অফিস। তাদের দাবি, নিয়ম মেনেই টাকা নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার বরাবাজার শহরের বরাভূম উপ ডাকঘরে দীর্ঘদিন ধরেই আধার কার্ডের বিভিন্ন ভুলত্রুটি বা বায়োমেট্রিক আপডেট করাতে সরকার নির্ধারিত অঙ্কের থেকে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। বেশ কিছুদিন যাবত বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, আধার কার্ডের জন্য অনেকেই সেখানে আসেন। কিন্তু সহজেই পরিষেবা পান না গ্রাহকরা। যাঁরা টাকা দিতে পারেন, তাঁদের কাজ আগে হয় বলে অভিযোগ। যাঁরা আধার সংশোধন বা অন্য কোনও কাজ করান, তাঁদের থেকে ৫০ টাকা করে বেশি নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এতে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েছেন।
স্বপন সিংহ বলেন, ছেলের ছোটবেলায় আধার কার্ড করিয়েছিলাম। ১৮ বছর হওয়াতে তা ১ সপ্তাহ আগে বরাভূম পোস্ট অফিসে আপডেট করাতে গিয়েছিল ছেলে। সেখান থেকে আধার কার্ডের জন্য যে রসিদ দেওয়া হয়েছিল তাতে ৮৪ টাকার উপর ১৮% জিএসটি ধার্য ছিল। সব মিলিয়ে একশ টাকার মতো হয়। কিন্তু পোস্ট অফিসে নেওয়া হয়েছে দেড়শ টাকা। এমনিভাবে অনেক গরিব মানুষের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে বলে অভিযোগ তাঁর। তিনি জানান, বিষয়টি পোস্ট অফিসে জানিয়েছিলাম। এরপর রেজিস্টার্ড পোস্ট মারফত ও ই মেল করে জেলা ও রাজ্যের হেড পোস্ট অফিসে অভিযোগ জানিয়েছি। তবে বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়টি মানতে নারাজ বরাভূম উপ ডাকঘরের কর্মীরা। সেখানকার সাব পোস্ট মাস্টার সুরঞ্জন কালিন্দী ফোনে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন। তাঁর কথায়, কোনওভাবেই বাড়তি টাকা নেওয়া হয় না। সরকার নির্ধারিত টাকাই নেওয়া হয়।