Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুষ্কৃতীদের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি, অনলাইনে এটিএম খোলার চাবি কিনেছিল বাঁকুড়ার ধৃতরা

‘ই-কমার্স’ সংস্থায় অর্ডার দিয়ে দুষ্কৃতীরা এটিএম মেশিন খোলার জন্য বিশেষ ধরনের চাবি কিনেছিল। তাই দিয়েই এটিএমের লক খুলে ফেলেছিল তারা।

দুষ্কৃতীদের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি, অনলাইনে এটিএম খোলার চাবি কিনেছিল বাঁকুড়ার ধৃতরা
  • ১১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ‘ই-কমার্স’ সংস্থায় অর্ডার দিয়ে দুষ্কৃতীরা এটিএম মেশিন খোলার জন্য বিশেষ ধরনের চাবি কিনেছিল। তাই দিয়েই এটিএমের লক খুলে ফেলেছিল তারা। বাঁকুড়ার মাকুড়গ্রামের এটিএম লুটের ঘটনায় ধৃতদের জেরা করে পাওয়া এই তথ্য তাজ্জব করে দিয়েছে পুলিসকে। 

Advertisement

বাঁকুড়া সদর থানার এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, এটিএমের একাধিক অংশ রয়েছে। সবচেয়ে সুরক্ষিত জায়গায় টাকার ‘ভল্ট’ থাকে। তারমধ্যে যাবতীয় নোট রাখা থাকে। ধৃত ভিন রাজ্যের দুষ্কৃতীদের থেকে আমরা এক ধরনের চাবি পেয়েছি। তারা অনলাইনে বরাত দিয়ে সেগুলি কিনেছিল। ওই চাবির সাহায্যে ভল্ট খোলা না গেলেও তার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া যায়। মেশিনের যে জায়গা থেকে নোট বের হয়, চাবির সাহায্যে সেই যন্ত্রাংশ খুলে ফেলা সম্ভব। ধৃতরা মাকুড়গ্রামের এটিএমে ওই চাবি ব্যবহারের কথা জেরায় স্বীকার করেছে। 
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকালে সদর থানার মাকুড়গ্রামে বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য সড়ক সংলগ্ন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএম থেকে টাকা লুট করা হয়। স্থানীয়রা বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা মুকেশকুমার তেওয়ারি, প্রফুল্লকুমার ভার্মা ও রাহুল দ্বিবেদীকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিসের হাতে তুলে দেন। ওই ঘটনায় ধৃতদের কাছ থেকে পুলিস চারটি এটিএম কার্ড, ৩০ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন সহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করে। গত শুক্রবার তিনজনকেই বাঁকুড়া জেলা আদালতে তুলে তদন্তকারীরা ১৩ দিনের পুলিস হেফাজতে নেন। শুক্রবার রাত থেকেই তাদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে অ্যানড্রয়েডের পাশাপাশি ‘কি-প্যাড’ যুক্ত সাবেক তিনটি মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ওই ফোনগুলি তারা কেন রেখেছে, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ধৃতরা ভিন্ন ভিন্ন কথা বলছে। পুলিস আধিকারিকরাও এব্যাপারে ধন্দে রয়েছেন। একইসঙ্গে ধৃতরা যে গাড়িতে চেপে ‘অপারেশন’ করতে এসেছিল, সেই ঝাড়খণ্ডের নম্বর প্লেটযুক্ত চারচাকা গাড়িটির ব্যাপারেও পুলিস বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। সেটির নম্বর প্লেট জাল কি না, তা দেখা হচ্ছে। কারণ এর আগে ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগিয়ে ধান বোঝাই ট্রাক গায়েব করার চক্র জেলায় ধরা পড়েছে। ভুয়ো নম্বর প্লেটযুক্ত বাইকে চেপে বাঁকুড়ায় ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। তবে তদন্তকারী আধিকারিকরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ওই বিশেষ ধরনের চাবি কেনার ব্যাপারটিকে। 
এক পুলিস আধিকারিক বলেন, এটিএম খোলার চাবি সাধারণত ব্যাঙ্ক বা মেশিন মেরামতের দায়িত্বে থাকা সংস্থার কাছে থাকে। কীভাবে অনলাইনে ওই চাবি সহজলভ্য হয়েছে, তা জানা জরুরি। এভাবে চললে দুষ্কৃতীরা সহজেই এটিএম লুট করতে পারবে। দিনের বেলায় সাধারণ মানুষের সন্দেহ হওয়ায় মাকুড়গ্রামে তিনজনে ধরা পড়েছিল। রাতে লোকজন কম রয়েছে, এমন এলাকায় চাবির সাহায্যে সহজেই এটিএম খুলে টাকা লুট করে দুষ্কৃতীরা পালাতে পারবে।     

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ