Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

রোগীসংখ্যায় কলকাতার ৪ মেডিকেল কলেজকে টেক্কা বাঁকুড়া সম্মিলনির

সামনে শুধু পিজি! কলকাতার বাকি চার মেডিকেল কলেজকে ‘পর্যুদস্ত’ করে পারফরম্যান্সে লাগাতার দ্বিতীয় স্থান দখলে রাখল দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া সম্মিলনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অন্তত সরকারি হিসেব বলছে সেই কথাই।

রোগীসংখ্যায় কলকাতার ৪ মেডিকেল কলেজকে টেক্কা বাঁকুড়া সম্মিলনির
  • ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৫:১২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সামনে শুধু পিজি! কলকাতার বাকি চার মেডিকেল কলেজকে ‘পর্যুদস্ত’ করে পারফরম্যান্সে লাগাতার দ্বিতীয় স্থান দখলে রাখল দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া সম্মিলনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অন্তত সরকারি হিসেব বলছে সেই কথাই। 

Advertisement

আধুনিক অনলাইন প্রযুক্তির সৌজন্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার মূল্যায়ন করতে স্বাস্থ্যদপ্তর প্রতিদিনের পারফরম্যান্স বিচার করে মেডিকেল কলেজ এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির একটি র‌্যাঙ্কিং করে। কতজন রোগী আউটডোরে ডাক্তার দেখালেন, কিউ আর স্ক্যান করে কতজন ডাক্তার দেখালেন, কত জনকে ই-প্রেসক্রিপশন দেওয়া হল, কতজন রোগী ইমার্জেন্সিতে এলেন, ইনডোরে কত রোগী ভর্তি হলেন, কতজনকে ওষুধ দেওয়া হল, কতজন রোগী পেলেন ল্যাবরেটরি রিপোর্ট, কতজন হাসপাতাল ছেকে ছুটি পেলেন এবং সব মিলিয়ে কতজন পেলেন পরিষেবা—প্রতিদিনের এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়।  এক মাস আগে, স্বাস্থ্যদপ্তরের ২৪ নভেম্বরের রিপোর্ট বলছে, শীর্ষে থাকা পিজি হাসপাতাল ওই দিন ২৮ হাজার ৭৮২ জন রোগীকে পরিষেবা দিয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাঁকুড়া সম্মিলনি মেডিকেল কলেজ। তারা ওই দিন পরিষেবা দিয়েছে ২১ হাজার ৬৪জনকে। ওই দিন তৃতীয় স্থানে ছিল কলকাতা মেডিকেল কলেজ, চতুর্থ স্থানে কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে এন আর এস। প্রথম দশেই নেই কলকাতার বাকি দুই মেডিকেল কলেজ আর জি কর এবং ন্যাশনাল। 
গত ২০ ডিসেম্বর, শনিবারের চিত্রটা কেমন ছিল? সেদিনও রোগী সংখ্যার নিরিখে শীর্ষে ছিল পিজি হাসপাতাল (১৭ হাজার ৮০৯)। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাঁকুড়া সম্মিলনি মেডিকেল কলেজ (১৬ হাজার ২৮৭)। মেডিকেল তৃতীয় স্থানে (১৩ হাজার ৫৭), এন আর এস ষষ্ঠ স্থানে (৬ হাজার ৯৯০), ন্যাশনাল (৪ হাজার ৫০৯) দশম এবং আর জি কর দ্বাদশ স্থানে (৩ হাজার ৫৩৯) রয়েছে। 
বাঁকুড়া সম্মিলনি মেডিকেল কলেজের এই সাফল্যের রহস্য কী? কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুণ্ডু বলেন, ‘টিম বাঁকুড়া ভালো কাজ করছে। এটাই আসল রহস্য। আমাদের এখানে ই-প্রেসক্রিপশন, ই-ডিসচার্জ, ই-ড্রাগ ডেলিভারি প্রচুর হচ্ছে। তিন মাস বা তারও বেশি সময় আমরা প্রায় রোজই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছি। কলকাতা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস বলেন, ‘আমি নিজেই বাঁকুড়ায় অনেকদিন ছিলাম। ওঁদের অভিনন্দন জানাই।’ তবে কলেজগুলিতে মেডিকেল শিক্ষা এবং পরিষেবার ক্ষেত্র এভাবে শুধু সংখ্যার বিচারে মূল্যায়ন করা যায় না বলেই মত সিনিয়র চিকিৎসকদের একাংশের। তাদের বক্তব্য, আসল কথা শুধু সংখ্যা নয়, গুণগত মানও। রোগীর নাম নথিভুক্ত করে কোনও কোনও কলেজ শীর্ষস্থানে উঠে আসছে। তিন-চার দিন যেতে না যেতেই দেখা যাবে, তাঁকে রেফার করে দেওয়া হয়েছে কলকাতায়! কত জটিল রোগী কী ধরনের উন্নত চিকিৎসা পেয়ে কত দ্রুত সুস্থ হলেন, এসব সূচককে মান্যতা দিলে পুরো র‌্যাঙ্কিংই ওলটপালট হয়ে যাবে।

সম্পর্কিত সংবাদ