Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাতভর তুমুল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, আরামবাগ, মুণ্ডেশ্বরী নদীতে ভাঙল বাঁশের সাঁকো, ফুঁসছে দামোদর

গত সোমবার পর্যন্ত শুকিয়ে কাঠ ছিল পুরুলিয়া-বাঁকুড়ার ‘লাইফ লাইন’ কংসাবতী নদী

রাতভর তুমুল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, আরামবাগ, মুণ্ডেশ্বরী নদীতে ভাঙল বাঁশের সাঁকো, ফুঁসছে দামোদর
  • ১৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: গত সোমবার পর্যন্ত শুকিয়ে কাঠ ছিল পুরুলিয়া-বাঁকুড়ার ‘লাইফ লাইন’ কংসাবতী নদী। এক রাতের বৃষ্টিতেই ফুঁসতে শুরু করেছে কংসাবতী। জল বেড়েছে দামোদর সহ অন্যান্য নদীগুলিতেও। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দিনভর প্রবল বর্ষণে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, আরামবাগের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বুধবার সকালে মুণ্ডেশ্বরী নদীর উপর আরামবাগের পূর্ব কেশবপুরে একটি বাঁশের সাঁকো জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। 

Advertisement

মঙ্গলবার সকাল থেকেই পুরুলিয়ায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হচ্ছিল। সন্ধ্যার পর থেকেই বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে থাকে। রাতভর ব্যাপক বৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে বুধবার সকাল ৭টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পুরুলিয়া জেলায় গড় ৯১.৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে কাশীপুরে, ১৮৪.২ মিলিমিটার। পাড়ায় ১৫৬.৪ মিলিমিটার, পুরুলিয়ায় ১৩৬ মিলিমিটার, বাঘমুণ্ডিতে ১১০ মিলিমিটার, মানবাজারে ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার জেলার রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা অত্যন্ত কম ছিল। হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালতেও উপস্থিতির হার ছিল নগণ্য। অনেক স্কুলেই পড়ুয়া সংখ্যা তলানিতে থাকায় টিফিনে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। প্রবল বর্ষণের জেরে পুরুলিয়া শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত বাঁকুড়ায় ১৩৯.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বাঁকুড়া শহর সহ জেলার বিভিন্ন ব্লক এলাকায় অন্তত পাঁচটি মাটির বাড়ি পড়ে গিয়েছে। বহু মাটির বাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির জেরে কংসাবতী, গন্ধেশ্বরী, দ্বারকেশ্বর, দামোদর সহ অন্যান্য নদনদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও কোনও বিপদ সংকেত জারি করা হয়নি বলে জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। বাঁকুড়া শহরের কাটজুড়িডাঙা লাগোয়া বাঁকুড়া-শালতোড়া রাজ্য সড়ক সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টির জল জমে স্থানীয়দের ভোগান্তি হয়। ওই এলাকায় থাকা একটি কালভার্ট বুজিয়ে দেওয়ার কারণে জল জমেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক অধিকারিক বলেন, নিম্নচাপের জেরে জেলাজুড়ে অতিবৃষ্টির জেরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিডিওদের কাছ থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাবে।
মঙ্গলবার পর্যন্ত আরামবাগে বৃষ্টি হয়েছে ১৮.৪মিলিমিটার। তার জেরে নদীগুলিতে কিছুটা জলস্তর বেড়েছে। দ্বারকেশ্বর নদের জল বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার সকালের মুন্ডেশ্বরী নদীর উপর থাকা আরামবাগের পূর্ব কেশবপুরে একটি বাঁশের সাঁকো জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। তারফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আরামবাগ শহরে দ্বারকেশ্বর নদের উপরে বালির বস্তা মজুত করেছে সেচদপ্তর। বাঁধে ন’টি স্লুইস গেট রয়েছে। ইতিমধ্যেই তার সংস্কার কাজ শুরু করেছে সেচদপ্তর। এছাড়া গতবছর বন্যা পরিস্থিতির সময় ভেঙে যাওয়া বাঁধগুলির কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে সেগুলি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।
যদিও সেচদপ্তরের হুগলি জেলার এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবেন্দ্র সিংহ বলেন, ডিভিসি শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪১হাজার কিউসেক হারে জল ছেড়েছে বলে শুনেছি। তাতে আমাদের এলাকায় আতঙ্কের কিছু নেই। বিভিন্ন জায়গায় বাঁধের কাজ চলছে। বৃষ্টির জন্য কাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। যেখানে প্রয়োজন সেখানে বালির বস্তা মজুত করে রাখা হচ্ছে। খানাকুল-২ এর বিডিও মধুমিতা ঘোষ বলেন, এখনই কোনও আতঙ্কের ব্যাপার নেই। পঞ্চায়েতগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ