Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়া: ফ্লো মিটারের গোলযোগে বারবার ফাটছে পাইপ, ২ দিন নির্জলা শহর

পাইপ ফেটে যাওয়ায় শনিবারও ‘নির্জলা’ ছিল বাঁকুড়া শহর। আর্সেনিকমুক্ত পরিস্রুত পানীয় জল না পেয়ে বাসিন্দারা নাকাল হন। শুক্রবার সকালে সতীঘাট বাইপাসের কাছে জলের পাইপ ফেটে গিয়েছিল।

বাঁকুড়া: ফ্লো মিটারের গোলযোগে বারবার ফাটছে পাইপ, ২ দিন নির্জলা শহর
  • ২৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: পাইপ ফেটে যাওয়ায় শনিবারও ‘নির্জলা’ ছিল বাঁকুড়া শহর। আর্সেনিকমুক্ত পরিস্রুত পানীয় জল না পেয়ে বাসিন্দারা নাকাল হন। শুক্রবার সকালে সতীঘাট বাইপাসের কাছে জলের পাইপ ফেটে গিয়েছিল। শনিবার দিনভর বাইপাস এলাকায় পুরসভার তরফে পাইপ মেরামত চলে। বিকেলে কাজ শেষের পর ট্রায়াল রানের সময় কিছুটা দূরে সুকান্তপল্লি দুর্গামন্দিরের সামনে পুরসভার পার্কে ফের পাইপ ফেটে বিপত্তি দেখা দেয়। এরপর পার্কের সীমানাপ্রাচীর ও রেলিং ভেঙে ভিতরে আর্থমুভার ঢোকানো হয়। মাটি খুঁড়ে পাইপের ফাটল চিহ্নিত করে মেরামত শুরু হয়।

Advertisement

পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহর লাগোয়া কেশিয়াকোলে একটি ফ্লো মিটারে যান্ত্রিক গোলযোগের জেরেই বারবার পাইপ ফেটে যাচ্ছে। এদিন জনস্বাস্থ্য কারিগরি(পিএইচই) দপ্তরের সহায়তায় ওই ফ্লো মিটার মেরামত করা হয়। বাঁকুড়া শহরে প্রতিদিন দেড় কোটি লিটার পানীয় জল সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে বিভিন্ন মরশুমে জলের চাহিদা বাড়ে-কমে। দামোদর থেকে জল তুলে পিএইচই’র বড়জোড়া প্রকল্পে জল শোধন করা হয়। সেখান থেকে ওই জল বাঁকুড়া শহরে সরবরাহ করা হয়।  পুরসভার চেয়ারপার্সন অলকা সেন মজুমদার বলেন, যান্ত্রিক গণ্ডগোলে ফ্লো মিটার বিকল হয়ে গিয়েছিল। কোনও কারণে শর্টসার্কিট হয়েছিল বলে অনুমান। তার জেরে পাইপের ভিতর জলের স্রোত অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। ফলে জলের চাপে পরপর দু’জায়গায় পাইপ ফেটে যায়। এক জায়গায় মেরামতের পর ট্রায়াল রানের সময় ফের অন্যত্র পাইপ ফেটে যাওয়ায় এদিন শহরে জল সরবরাহ করা যায়নি। বিষয়টি মহকুমা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এদিন পিএইচই’র ইঞ্জিনিয়াররা ফ্লো মিটার মেরামত করেছেন। ট্রায়াল রানও হচ্ছে। নতুন করে বিপত্তি না হলে রবিবার সকাল থেকে শহরে জল সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
শহরের বাসিন্দা সুকুমার দাস, লতা ভট্টাচার্য বলেন, কিছুদিন আগেই দুর্গাপুর ব্যারাজে পিএইচই’র ইনটেক পয়েন্টে কচুরিপানা জমে যাওয়ায় জল সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল। এবার পাইপ ফেটে যাওয়ায় আমরা টানা দু’দিন জল পেলাম না। বর্ষায় নিম্নচাপের কারণে পরিস্রুত জল পাওয়া নিয়ে এমনিতেই চিন্তা রয়েছে। তার মধ্যে পরপর দু’দিন আর্সেনিকমুক্ত জল না পেয়ে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। পুরসভা ও পিএইচই জল সরবরাহ ব্যবস্থার উপর নজরদারি বাড়ালে ভালো হয়।   বাঁকুড়া শহরের সতীঘাট বাইপাসে ফেটে যাওয়া পানীয় জলের পাইপ মেরামত করছে পুরসভা-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ