নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। সেই জন্য বাঁকুড়া শহরে জলা-জঙ্গলে ভরে থাকা বিভিন্ন খালি জমির বিষয়ে পুরসভা কড়া অবস্থান নিচ্ছে। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে জমি হাঙররা পরে চড়া দামে বিক্রির জন্য প্লট কিনে ফেলে রেখেছে। ওই সমস্ত জমিতে বৃষ্টিতে জল জমছে। আগাছা জন্মে পুরো জমি ঝোপঝাড়ে ভরে যাচ্ছে। এসব জমি মশার আঁতুড় ঘরে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ‘বর্তমান’-এ জমি হাঙরদের এই ছকের বিষয়ে খবর প্রকাশিত হয়। এরপরই পুরসভা নড়েচড়ে বসে। অবিলম্বে জায়গা পরিষ্কার না করা হলে জমির মালিককে এক লক্ষ টাকা জরিমানা, অথবা জমি অধিগ্রহণ করে নেওয়া হবে বলে পুরসভা জানিয়েছে।
বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারপার্সন অলকা সেনমজুমদার বলেন, ডেঙ্গু সহ অন্য পতঙ্গবাহিত রোগ মোকাবিলায় আমরা কাজ করে চলেছি। গুটিকয়েক মানুষের ব্যবসায়িক স্বার্থের জন্য শহরবাসীকে আমরা বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারি না। জমি হাঙরদের সঙ্গে কোনওরকম আপস করা হবে না। ১আগস্ট থেকে একসপ্তাহ সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে জমি মালিকরা নিজ নিজ জায়গা পরিষ্কার না করলে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। একলক্ষ টাকা জরিমানা করা হবে। তেমন হলে ওই জায়গা আমরা অধিগ্রহণও করে নিতে পারি।
দ্বারকেশ্বর নদ থাকায় বাঁকুড়া শহরের দক্ষিণদিকে নগরায়ণের সম্ভাবনা নেই। ফলে পূর্ব ও উত্তরদিকে শহর ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাম আমল থেকেই ওই দু’দিকে নতুন নতুন এলাকায় ঘরবাড়ি তৈরি পুরোদমে শুরু হয়। শহরের অনেকেই জানান, বাম আমলে সার্কাস ময়দান থেকে জুনবেদিয়া বাইপাস পর্যন্ত একটি চওড়া রাস্তা তৈরির প্রস্তাব পুরসভায় জমা পড়েছিল। নগরায়ণের জন্য সেখানে একাধিক নিকাশিনালা তৈরির দাবিও ওঠে। কিন্তু, প্রোমোটারদের চাপে বাঁকুড়া পুরসভার তৎকালীন বোর্ড সেসব রূপায়ণ করেনি। জমি মাফিয়ারা বড় জায়গা প্লট করে বিক্রির সুবিধার জন্য ঘুঁটি সাজায়। নানা কারণে সেই সময় পুরসভা তাদের পরোক্ষে মদত দিয়েছিল। ওই প্রোমোটার ও জমি মাফিয়ারা নিজেদের আখের গুছিয়ে নিয়েছে। কিন্তু, তার ফল এখন বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দাদের ভোগ করতে হচ্ছে। নতুন গজিয়ে ওঠা ওই সমস্ত পাড়ায় অল্প বৃষ্টিতেই জল জমছে। সেই জল বের করতে পুরসভাকে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে খালি পড়ে থাকা বিভিন্ন প্লট নিয়েই পুর কর্তৃপক্ষ বেশি চিন্তিত। অবহেলায় ফেলে রাখা ওই সমস্ত প্লটের জঙ্গল সাফাই না হলে এবার জমি মালিকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুরসভা।