সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রঘুনাথপুর মহকুমা এলাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। অথচ রঘুনাথপুরে একটি মর্গ গড়ে উঠেনি। ফলে এখনও মহকুমা এলাকার বাসিন্দাদের ময়নাতদন্তের জন্য ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে পুরুলিয়া ছুটতে হয়। আবার এমনও দৃষ্টান্ত দেখা যায়, সঠিক সময়ের মধ্যে মর্গে না পৌঁছলে সেইদিন আর ময়নাতদন্ত হয় না। মৃতের আত্মীয় পরিজনদের পরের দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ফলে একটি সাধারণ পরিবারের পক্ষে ময়নাতদন্ত সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। যার ফলে রঘুনাথপুর মহকুমা এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষোভ রয়েছে। মহকুমা এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে মহকুমা এলাকায় একটি মর্গ গড়ে তোলা হোক।
পুলিস প্রশাসনে একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, মহকুমা এলাকায় সাঁতুড়ি, নিতুড়িয়া, রঘুনাথপুরের মতো সাতটি থানা এবং আদ্রা জিআরপি রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুসারে মহকুমা এলাকায় বছরে ২০০ থেকে ৩০০ অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। সব দেহ পুরুলিয়া মর্গে পাঠানো হয়। ফলে শুধু বাসিন্দারাই নয়, পুলিসও সমস্যায় পড়ে।
মহকুমার এক পদস্থ পুলিস আধিকারিক বলেন, পুরুলিয়ার মর্গে চাপ বেশি থাকায় সেখান থেকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেতে ১৫ থেকে ২০ দিন, এমনকি একমাসও গড়িয়ে যায়। কোনও ক্ষেত্রে খুনের অভিযোগ হলে তদন্তের গতি প্রকৃতি কি হবে তার বেশিরভাগ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের উপর নির্ভর করে। ফলে রিপোর্ট আসতে দেরি করায় অনেক অসুবিধা হয়।
পুরুলিয়া জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, বাম আমলে রঘুনাথপুর মহকুমা হাসপাতালের এক কোণে স্বাস্থ্য দপ্তরের বরাদ্দ টাকায় মর্গের জন্য বাড়ি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অর্থ দপ্তরের অনুমোদন না মেলায় কাজ এগয়নি। বর্তমানে মহকুমা হাসপাতাল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে উঠে গিয়েছে। সেখানে ১২টি দেহ রাখার মতো ‘ফ্রিজার রুম’ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকদের একাংশের মত, হাসপাতালের ভিতরে মর্গ হলে সেখানে বেওয়ারিশ দেহ জমবে। তা হাসপাতালের পরিবেশের পক্ষে স্বস্তিদায়ক নয়। তা ছাড়া মর্গের জন্য লাশকাটার ঘর-সহ আরও কিছু ঘরের প্রয়োজন রয়েছে। সেই সবের পরিকাঠামো রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল চত্বরে জায়গা নেই।
সাঁতুড়ি এলাকার শিক্ষক সুশান্ত কেওড়া, নিতুড়িয়ার তৃণমূলের এসসি সেলের সভাপতি উত্তম বাউরিরা বলেন, রঘুনাথপুর মহকুমা এলাকার বেশিরভাগ মানুষ দিনমজুর। সেক্ষেত্রে কোনও পরিবারে দুর্ঘটনা ঘটলে ময়নাতদন্তের জন্য ৭০ কিলোমিটার দূরে পুরুলিয়া ছুটতে হয়। সরকারের উচিত রঘুনাথপুর মহকুমার মানুষের কথা ভেবে একটি মর্গ তৈরি করা। রঘুনাথপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক বিবেকানন্দ বাউরি বলেন, মর্গের বিষয়টি নিয়ে একবার স্বাস্থ্য দপ্তরে জানিয়েছিলাম। রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, সুপার স্পেশালিটি চত্বরে তেমন জায়গা নেই। আবার সেখানে যদি করাও হয় তাহলে এলাকায় দুর্গন্ধ হবে, দূষণ ছড়াবে বলে এলাকাবাসীর আপত্তি রয়েছে। সেই বিষয়টি মর্গ তৈরিতে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। তবে এলাকায় যাতে মর্গ তৈরি করা হয় তার জন্য সব রকম চেষ্টা করা হবে। বাঁকুড়া সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, মর্গের বিষয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে কথা বলবেন। সংসদে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।