নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ঘটা করে তৈরির পরেও চালু করা যাচ্ছে না বাঁকুড়া জেলা পরিষদের বায়ো গ্যাস প্রকল্প। প্রায় ৫৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাঁকুড়া-১ ব্লকের জগদল্লা এলাকায় ওই প্রকল্প রূপায়িত হয়েছে। পরিকল্পনাহীনভাবে তড়িঘড়ি করে প্রকল্প নির্মাণ করার কারণেই এই হাল হয়েছে বলে জেলা পরিষদেরই একাংশ অভিযোগ তুলেছে। সম্প্রতি জেলা পরিষদের অর্থ স্থায়ী সমিতির একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে এক সদস্য নিজের এলাকার জন্য বায়ো গ্যাস প্রকল্প দাবি করেন। কিন্তু জগদল্লার প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ায় জেলা পরিষদের আধিকারিকরা ওই সদস্যের প্রস্তাব সটান নাকচ করে দেন। ঘটনায় জেলা পরিষদের সদস্যদের একাংশ ক্ষুব্ধ। তৃণমূলের অন্দরেই প্রকল্প রূপায়ন নিয়ে তদন্তের দাবি উঠতে শুরু করেছে। ওই প্রকল্প রূপায়নের পিছনে ‘কাটমানির’ খেলা চলেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা উচিত বলে সদস্যদের একাংশ মনে করছেন। পুরো ঘটনায় জেলা পরিষদের এক মাথার স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে বলেও তাঁদের অভিমত। কারণ ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাটমানি আদায়ের ঘটনায় ওই মাথা ও তার পরিবারের সদস্যদের বারবার নাম জড়িয়েছে। ফলে জগদল্লার প্রকল্পকে ঘিরেও তেমন কোনও ‘খেলা’ হয়েছে কি না, তা খোলসা হওয়া প্রয়োজন বলে জেলা পরিষদ সদস্যদের অনেকেই মনে করছেন।
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তথা বাঁকুড়া জেলা পরিষদের ডেপুটি সেক্রেটারি সুধাংশু পাইকের অফিসে বুধবার গেলেও তিনি মুখ খুলতে চাননি। সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলা বারণ আছে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবাদী সদস্য বলেন, আমার কেন্দ্রে একাধিক খাটাল রয়েছে। সেখানে বাড়িতেও অনেকে গবাদি পশু পুষে থাকেন। ফলে গোবরের কোনও অভাব হবে না। তাই নিজের এলাকার মানুষের সুবিধার কথা ভেবে অর্থের বৈঠকে বায়ো গ্যাস প্রকল্পের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু জগদল্লার প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ায় আমার প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়া হয়।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বচ্ছ ভারত মিশন প্রকল্পের আওতায় জগদল্লার ওই প্রকল্প রূপায়িত হয়। ২০২৩-২৪ অর্থ বৎসরে তার জন্য ৫৭ লক্ষ ৯২ হাজার ১১১ টাকা বরাদ্দ করা হয়। সেই অনুযায়ী টেন্ডার করে এক ঠিকাদারকে বরাত দেওয়া হয়। ঝাঁ চকচকে সীমানা প্রাচীরের মধ্যে ওই বায়ো গ্যাস প্রকল্পের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু তা থেকে নামমাত্র গ্যাসও উৎপাদন করা যায়নি।
অর্থের বৈঠকে থাকা এক জেলা পরিষদ সদস্য তথা তৃণমূল নেত্রী বলেন, জগদল্লার বায়ো গ্যাস নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে আমাদের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ওই প্রকল্প চালানোর জন্য একলপ্তে অন্তত এক হাজার লিটার তরল গোবর প্রয়োজন। প্রতি লিটার দু’ টাকা হিসেবে তার দাম দু’ হাজার টাকা পড়বে।
প্রকল্প এলাকার কাছাকাছি কোনও উৎস না থাকায় দূর থেকে গোবর আনার জন্য অন্তত দেড় হাজার টাকা খরচ হবে। ওই গোবর থেকে গ্যাস উৎপাদন করতে সবমিলিয়ে যা ব্যয় হবে তার অর্ধেক খরচও উঠবে না। সরকারি জায়গা ও টাকা পেলেই সাতপাঁচ না ভেবে প্রকল্প রূপায়নের কোনও মানে হয় না। এর পিছনে কার স্বার্থ জড়িত রয়েছে তা তদন্ত করে দেখা উচিত।